
বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ বিরাট কোহলির
বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি বিরাট কোহলির আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। দামি ঘড়ি তাঁর কাছে শুধুমাত্র ফ্যাশনের অনুষঙ্গ নয়, বরং আভিজাত্য, রুচি ও বিশেষ নকশার প্রতি ভালবাসারও প্রতিফলন। বৃহস্পতিবার ৩৮-তম জন্মদিন পালন করছেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই মহাতারকা। সেই উপলক্ষে একবার দেখে নেওয়া যাক তাঁর ঘড়ির সংগ্রহে থাকা রোলেক্স, পাটেক ফিলিপ, অডেমার পিগে ও কার্টিয়েরের মতো বিশ্বের নামী ব্র্যান্ডের কিছু বিলাসবহুল ঘড়ি।
বিলাসবহুল ঘড়ি-গাড়ি ভালোবাসেন বিরাট-অনুষ্কা
ফ্যাশন সচেতনতা, ফিটনেসের প্রতি নিষ্ঠা এবং বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি ভালবাসার জন্য পরিচিত বিরাট কোহলি। তবে তাঁর জীবনযাপনের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হল দামি ঘড়ির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। বিশ্বের অন্যতম নামী ঘড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার একাধিক বিশেষ মডেল পরতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যার কয়েকটির আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। হিরে ও রঙিন মূল্যবান পাথরে সাজানো রোলেক্স ডেটোনা রেনবো থেকে শুরু করে মার্জিত পাটেক ফিলিপ অ্যাকুয়ানট, বিরাটের সংগ্রহে রয়েছে নানা ধরনের নজরকাড়া ঘড়ি।
কোটি কোটি টাকা দামের ঘড়ির মালিক বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলির সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে দামি ঘড়িগুলির মধ্যে অন্যতম রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা রেনবো। এভারোজ গোল্ডের তৈরি এই বিশেষ মডেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪.৬ কোটি টাকা। রঙিন মূল্যবান পাথরের ব্যবহার এই ঘড়িকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বিলাসবহুল ঘড়ি বিরাটের
বিরাট কোহলির সংগ্রহে থাকা রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা রেনবো ঘড়িটির বেজেলে রয়েছে রামধনুর সাত রঙের মূল্যবান পাথর। ডায়ালেও রয়েছে হিরের কারুকাজ। রোলেক্সের ডেটোনা সিরিজের অন্যতম আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় মডেল এটি। বিরাটের সংগ্রহে ডেটোনার আরও কয়েকটি সংস্করণ রয়েছে বলেও জানা যায়। যার মধ্যে রয়েছে আইস-ব্লু ডায়ালের প্ল্যাটিনাম মডেল এবং সবুজ ডায়ালের হলুদ সোনার সংস্করণ।
বিরাট কোহলির সংগ্রহে পাটেক ফিলিপ অ্যাকুয়ানট
বিরাট কোহলির ঘড়ির সংগ্রহে অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম পাটেক ফিলিপ অ্যাকুয়ানট। তাঁকে এই সংস্থার রোজ গোল্ড অ্যাকুয়ানট রেফারেন্স ৫১৬৭আর-০০১ মডেলটি পরতে দেখা গিয়েছে। রোজ গোল্ডের কেস, বাদামি রঙের বিশেষ নকশার ডায়াল এবং একই রঙের কম্পোজিট স্ট্র্যাপ এই ঘড়ির প্রধান আকর্ষণ। হিরে বসানো ঘড়ির তুলনায় এর নকশা অনেক বেশি মার্জিত ও সংযত।
বিরাট কোহলির সংগ্রহে বিরল ঘড়ি
জটিল যান্ত্রিক প্রযুক্তি, নিখুঁত কারিগরি এবং সীমিত উৎপাদনের কারণে ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে পাটেক ফিলিপের বিশেষ কদর রয়েছে। বিরাট কোহলিকে পাটেক ফিলিপ নটিলাস রেফারেন্স ৫৮১১/১জি-০০১ মডেলটিও পরতে দেখা গিয়েছে। সাদা সোনার তৈরি এই ঘড়িতে রয়েছে নীল রঙের সানবার্স্ট ডায়াল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘড়িটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ১.৯৫ কোটি টাকা। তবে বাজারের চাহিদা ও প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে প্রকৃত দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
বিরাট কোহলির ঘড়ির সংগ্রহ তাক লাগিয়ে দেয়
বিরাট কোহলির ঘড়ির সংগ্রহ শুধু রোলেক্স ও পাটেক ফিলিপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অডেমার পিগে এবং কার্টিয়েরের মতো বিশ্বের আরও কয়েকটি নামী সুইস ব্র্যান্ডের ঘড়িও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে বলে জানা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মডেল হল—
১. অডেমার পিগে রয়্যাল ওক ডাবল ব্যালান্স হুইল ওপেনওয়ার্কড: ১৮ ক্যারেট রোজ গোল্ডের তৈরি এই ঘড়িতে রয়েছে জটিল কারুকাজ করা ওপেনওয়ার্ক ডায়াল এবং বিশেষ ডাবল ব্যালান্স হুইল প্রযুক্তি। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭৮ লক্ষ টাকা।
২. রোলেক্স ডে-ডেট ৩৬ পাজল: অভিনব ও রঙিন পাজল-অনুপ্রাণিত ডায়ালের জন্য এই মডেলটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ঘড়িটির আনুমানিক মূল্য ৫০-৫২ লক্ষ টাকা।
৩. কার্টিয়ের সান্তোস দে কার্টিয়ের: বর্গাকার কেস, সবুজ ডায়াল এবং স্টিলের ব্রেসলেট এই ঘড়ির বিশেষত্ব। এর আনুমানিক খুচরো বিক্রয়মূল্য প্রায় ৯.৫৫ লক্ষ টাকা।
৪. রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা: সাদা ডায়াল এবং ১৮ ক্যারেট সোনার ফিনিশিংয়ের এই ক্লাসিক ক্রোনোগ্রাফ মডেলটিও কোহলির সঙ্গে যুক্ত ঘড়ির তালিকায় রয়েছে।
ফিটনেস ও ফ্যাশন সচেতন বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলির ঘড়ির প্রতি আকর্ষণ শুধুমাত্র বিলাসবহুল সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতার উপর নজর রাখতেও তিনি WHOOP-এর মতো স্ক্রিনবিহীন ওয়্যারেবল ট্র্যাকার ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে ঘুম, শরীরের পুনরুদ্ধার এবং শারীরিক পারফরম্যান্সের বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়।