
Hockey World Cup 2026: FIH পুরুষ হকি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ যখন ভারত মাঠে খেলতে নামছে, তখন তাদের কাঁধে রয়েছে ইতিহাসের এক বিরাট দায়িত্ব। ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালে, শেষবারের জন্য হকি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারতীয় হকি দল। সেই বছর কুয়ালালামপুরে, অজিত পাল সিং-এর নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয় ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে একটা সোনালী অধ্যায় হিসেবে রচিত। সেই স্মৃতি আজও দেশের হকিপ্রেমীদের মনে টাটকা এক হাওয়া এনে দেয়। অন্যদিকে, আগামী ১৫ অগাস্ট থেকে বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের মাটিতে শুরু হতে চলা FIH হকি বিশ্বকাপে সেই পুরনো ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই আবারও মাঠে নামছে ভারত।
তবে দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং তাঁর সতীর্থরা ভালোভাবেই জানেন যে, ইতিহাস দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। অতএব, তাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, অতীতের নস্টালজিয়াকে অনুপ্রেরণায় বদলে দেওয়া এবং মাঠে নেমে ভালো ফল করা।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭৫ সালের সেই ঐতিহাসিক অভিযানের একটা দারুণ মিল রয়েছে। অজিত পাল সিং অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। এর আগে ১৯৭১ সালের বিশ্বকাপেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন। ঠিক একইভাবে, হরমনপ্রীতও অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নামছেন দলকে নিয়ে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে তিনি প্রথমবার অধিনায়কত্ব করেন। তার ফলে, অজিত পাল সিং-এর পর দ্বিতীয় ভারতীয় হকি অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়বেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের আগে ভারতের প্রস্তুতি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। FIH প্রো লিগের শেষ পর্বে দলের পারফরম্যান্স বেশ উন্নত হয়েছে। তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে। এছাড়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে দুবার এবং ইংল্যান্ডকে একবার শ্যুট আউটে পরাজিত করেছে। এই জয়গুলি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ড, দুই দলই ভারতের গ্রুপে রয়েছে।
লাদাখে চলছে আইস হকি লিগের তৃতীয় মরসুম, প্রথম ম্যাচ থেকেই উত্তেজক লড়াই
এবারের বিশ্বকাপে ভারতকে 'পুল ডি'-তে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েলস। ১৫ অগাস্ট, ওয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ভারতের হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ১৭ অগাস্ট, ইংল্যান্ড এবং ১৯ অগাস্ট, পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। পুল পর্বের খেলাগুলি খুব কাছাকাছি হওয়ায়, বিন্দুমাত্র অসতর্ক হওয়ার সুযোগ নেই ভারতের সামনে। প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলই পরের পর্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যে দেশ ৫১ বছর ধরে বিশ্বকাপের অপেক্ষায়, তাদের কাছে প্রতিটি বিশ্বকাপই ১৯৭৫ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। কিন্তু এই ভারতীয় দলের অতীতের পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। তাদের কাছে সুযোগ আছে সেই ইতিহাসকে সম্মান জানানোর। ঠিক সেই একই জেদ, লড়াই এবং বিশ্বাস নিয়ে খেলার, যা একদিন অজিত পাল সিং-এর দলকে বিশ্বসেরা করেছিল।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।