
FIFA World Cup 2026: চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে গোল করে কি বাবাকে খুঁজছিলেন ইরাকের (Iraq vs Norway) অধিনায়ক আয়মেন হুসেন (Aymen Hussein)? তাঁর যখন ১২ বছর বয়স ছিল, তখন তাঁর বাবাকে খুন করে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা (Al-Qaeda)। আয়মেনের বাবা ইরাকের সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সবার থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করছিলেন। সেই বাড়ি তৈরি করার জন্য নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছিলেন তিনি। সেই সময়ই তাঁকে খুন করে সন্ত্রাসবাদীরা। সেই বাড়ির কাজ আর সম্পূর্ণ হয়নি। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়মেন বলেছেন, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসতাম। কিন্তু আমার পুরনো স্বপ্ন ছিল, বাবা যে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ করার মতো টাকা জমাতে হবে।’
ইরাকের আল-হাওয়িজা (Al-Hawija) জেলার আল-সাফরা (Al Safra) গ্রামে জন্ম আয়মেনের। তিনি যুদ্ধ, গুলির শব্দ, বারুদের গন্ধ, বিস্ফোরণ, অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে বড় হয়েছেন। ফুটবলই তাঁর সুস্থ জীবনের একমাত্র রসদ ছিল। কিন্তু সেই ফুটবলই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন ইরাকের অধিনায়ক। কারণ, বাবা খুন হওয়ার পর তিনি মা ও দাদাকে অন্য জায়গায় চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা অন্য কোথাও যাননি। তাঁর দাদাও সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। একদিন সেনা শিবির থেকে ফেরার সময় তাঁকে অপরহণ করে আইএসআইএস (ISIS)। তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাবার পর দাদাকেও হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন আয়মেন। তিনি সেই সময় ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু তাঁর মা খেলা চালিয়ে যেতে বলেন।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) পৌঁছনোর পরেই সমস্যায় পড়েন আয়মেন। শিকাগোর (Chicago) ও'হেয়ার বিমানবন্দরে (O'Hare Airport) তাঁকে সাত ঘণ্টা জেরা করা হয়। তাঁর ফোনও পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বকাপে খেলতে নেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনতাকে নিজের দক্ষতা বুঝিয়ে দিলেন এই ফুটবলার।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।