
Shikhar Dhawan Divorce News:বিবাহ বিচ্ছেদ ও খোরপোষ মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan)। ধাওয়ানের সঙ্গে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী আয়েষা মুখার্জি (Aesha Mukherjee)-র আর্থিক বিবাদে বড় স্বস্তি দিল দিল্লির পারিবারিক আদালত। অস্ট্রেলিয়ার আদালতের নির্দেশ খারিজ করে ধাওয়ানের পক্ষেই রায় দিল ভারতীয় আদালত। মামলার সূত্রপাত ধাওয়ানের অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দুই সম্পত্তি বিক্রি ঘিরে। ভিক্টোরিয়ার বারউইক ও ক্লাইড নর্থ এলাকায় অবস্থিত ওই সম্পত্তি বিক্রির অর্থ নিয়ে শুরু হয় আইনি লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক আদালত ১৯৭৫ অনুযায়ী সম্পত্তি নিষ্পতিকরণ বা 'প্রপার্টি সেটেলমেন্ট'-এর নির্দেশ দেয় এবং ধাওয়ানকে প্রায় ৮.৯৪ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৭২ কোটি টাকা প্রাক্তন স্ত্রীকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ধাওয়ান সেই নির্দেশ মেনেই টাকা পরিশোধ করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর দুটি সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন। তবে পরে তিনি দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ওই রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। এই সম্পত্তি দু'টি ছিল অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার বেরউইক ও ক্লাইড নর্থ এলাকায়। তাঁর দাবি ছিল, অস্ট্রেলিয়ার 'প্রপার্টি সেটেলমেন্ট' ধারণা ভারতীয় আইনে স্বীকৃত নয় এবং হিন্দু বৈবাহিক আইন-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, চাপ ও প্রতারণার মাধ্যমে ওই আর্থিক চুক্তিতে সই করানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লির আদালত নিষ্ঠুরতার অভিযোগে ধাওয়ান ও তাঁর স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে। কিন্তু বিচ্ছেদের পরেও আর্থিক নিষ্পত্তি নিয়ে দুই দেশের আদালতে লড়াই চলছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লির পারিবারিক আদালত গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত জানায়, অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক আদালতের এই নির্দেশ ভারতে বলবৎযোগ্য নয়। একই সঙ্গে ধাওয়ানের সই করা সংশ্লিষ্ট আর্থিক চুক্তিগুলিকেও বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।
শুধু তাই নয়, আদালত নির্দেশ দিয়েছে,আয়েষা মুখার্জি-কে ধাওয়ানের দেওয়া ৫.৭২ কোটি টাকা ৯ শতাংশ বার্ষিক সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। মামলার দায়েরের দিন থেকে এই সুদ প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার রায়ের ভিত্তিতে ভারতে ভবিষ্যতে কোনও আর্থিক দাবি তোলার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। আইনজীবীদের মতে, এই রায় শুধু ধাওয়ানের জন্যই স্বস্তির নয়, বরং বিদেশি পারিবারিক আদালতের রায় ভারতীয় আইনে কতটা প্রযোজ্য সেই প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করল।