বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে ফের একবার স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জুলাই মাসের পর সোমবার, ১৭ অগস্ট আরও একবার তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল কলকাতা হাই কোর্ট।
29
৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ নিতে পারবে না দমনমূলক পদক্ষেপ
বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে শুনানির পর আদালতের নির্দেশ, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। অর্থাৎ জুলাইয়ের পর এই মামলায় আবারও রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
39
ফরেনসিক রিপোর্টে মিলল সই জালের প্রমাণ
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে তিন জন বিধায়কের সই জাল হওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, মোট কত বিধায়কের সই ছিল? জবাবে রাজ্য জানায়, ৭০ জনের সই ছিল, যার মধ্যে পাঁচ জনের সই জালের অভিযোগ ছিল, আর তিন জনের সত্যতা ফরেনসিকে স্পষ্ট হয়েছে।
59
আদালতে সরাসরি বয়ান দিলেন পাঁচ বিধায়ক
রাজ্যের তরফে জানানো হয়, যে পাঁচ জন বিধায়কের সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁরা প্রত্যেকেই এগিয়ে এসে আদালতে বয়ান দিয়েছেন।
69
৬ মে নয়, সই হয়েছিল ১৯ মে— দাবি রাজ্যের
রাজ্যের সওয়াল অনুযায়ী, অভিষেকের উপস্থিতিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতি হয়েছে। ৬ মে কোনও রেজ়োলিউশন না হলেও সেই তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়, অথচ প্রকৃত সই হয়েছিল ১৯ মে।
79
"জালিয়াতিতে যুক্ত নন অভিষেক"— প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বিচারপতির
সিআইডির তোলা বয়ান খতিয়ে দেখে বিচারপতি চন্দ মন্তব্য করেন, মমতা ও অভিষেক শুধু বিধায়কদের একসঙ্গে থাকার কথা বলেছেন বলে বয়ানে উঠে এসেছে, তার বাইরে জালিয়াতির সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছে আদালত। বিচারপতি অভিজিৎ চন্দ বলেন, 'অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জালিয়াতিতে যুক্ত, প্রাথমিক ভাবে আদালত তা মনে করছে না।'
89
নভেম্বরে পরবর্তী শুনানি, তদন্তে জোর সিআইডির
আদালত জানতে চায় তদন্ত শেষ হতে আর কত সময় লাগবে। বিচারপতি জালিয়াতি ছাড়া অন্য কোনও ধারা যুক্ত হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তদন্তকারীদের। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী নভেম্বরে।
99
সই জাল কাণ্ড কী?
বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দু'দিন পর, ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে বিধায়কদের সায়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাশ হয়। সেই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়, কারণ পরিষদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি ওঠে। এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে বিধায়কদের সই করানো হলেও তা ৬ মে-র কার্যবিবরণীতে বসানো হয় বলে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন বিধায়ক, যা থেকেই তৈরি হয় জটিলতা ও সই জাল বিতর্ক।