লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির অভিযোগের মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টে কোনও রিপোর্ট জমা দিতে পারবে না সিবিআই বা ইডি। সোমবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এক বড় নির্দেশ দিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির অভিযোগ উঠেছে। এই মামলায় সিবিআই, ইডি বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে কোনও রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছে শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টকে অনুরোধ করেছে, আগামী ২০ আগস্টের শুনানি আপাতত স্থগিত রাখতে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত শিশিরকে নোটিশও জারি করেছে।

রাহুলের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি বিহীন সম্পত্তি মামলা

কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস ভিগনেশ শিশির এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাহুলের আয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির কোনও মিল নেই। তিনি রাহুল এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। শুনানির সময় রাহুলের আইনজীবী, বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিবাল বলেন, "এটা এক ধরনের হেনস্থা, যাকে আইন স্বীকৃতি দেয় না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই আবেদনকারী বারবার একই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই রিট পিটিশন করার অধিকারই বা তাঁর কী আছে? সিবিআই অভিযোগ যাচাই করা ছাড়া আর কিছুই করেনি।"

বিচারপতি বাগচী বলেন, এই আবেদনে যে বিষয়গুলো তোলা হয়েছে, তার জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন হয় না। তারা নিজেরাই তদন্ত করতে পারে।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য

প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, "ধরা যাক কেউ খুন করল, সেক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতির দরকার হয় না। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে, আদালত যদি কোনও নির্দেশ দিতে চায়, তবে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে চলা উচিত।" তিনি সিবিআই-এর পক্ষে উপস্থিত থাকা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজুকে প্রশ্ন করেন, "বিষয়টা যদি এতই গুরুতর হয়, তাহলে আপনাদের সংস্থা চুপ করে ছিল কেন? মিস্টার রাজু, আপনাদের কি আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন? আপনারা কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছেন? নেননি, তাই তো?"

এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা

উল্লেখ্য, গত মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সিবিআই এবং ইডি-কে এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন রাহুল। শিশিরের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়াও, তিনি এই মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে দিল্লি হাইকোর্টে স্থানান্তরের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করেছেন। গত ২০ জুলাই এই মামলার শুনানিতে সিবিআই-এর হলফনামায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট। আদালত একটি নতুন হলফনামা জমা দিয়ে তদন্তের স্ট্যাটাস জানাতে বলে। হাইকোর্ট আরও জানায়, ইডি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তদন্তে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

পরবর্তী শুনানি

এরপর হাইকোর্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২০ আগস্ট ধার্য করেছিল।