
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি টিম পৌঁছানোর পর রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তীব্র আক্রমণ শানালেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে "বুক করে গ্রেফতার করা উচিত"। ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রা বলেন, সিআইডি-র এই পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে যে সংবিধানই সর্বোচ্চ এবং দেশের আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাজ্যে দুর্নীতি ও অপরাধকে বাড়তে দিয়েছেন।
অগ্নিমিত্রা বলেন, "এতেই বোঝা যায় যে সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, দেশের আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত পনেরো বছর ধরে অপরাধী, দুর্নীতি এবং আরও কত কী সহ্য করেছেন। তিনি সংবিধানের তোয়াক্কা করেননি। তিনি এমনভাবে আচরণ করতেন যেন পশ্চিমবঙ্গ অন্য একটি দেশ আর তিনি তার প্রধানমন্ত্রী। তাই আজ সিআইডি ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। মানুষ বিচার পাবে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে "প্রতারণা" করেছেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তাই অগ্নিমিত্রা আবারও জোর দিয়ে বলেন, " ওঁকে গ্রেফতার করা উচিত।"
এদিকে, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, তৃণমূল দল দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারকে সমর্থন করে। দলের সদস্যরা আর এই ধরনের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। তিনি বলেন, "কোনও এমপি বা এমএলএ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই, কারণ তৃণমূলের কোনও আদর্শ বা ভিত্তি নেই। গত পনেরো বছর শুধু দুর্নীতি, সিন্ডিকেট আর নানা কুকীর্তি চলেছে... ওঁরা এমন একটা দলের অংশ হতে চান না, যে দল উন্নয়নের জন্য কিছুই করেনি, দুর্নীতিকে সমর্থন করেছে এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারকে উপেক্ষা করেছে। ওঁরা এমন দলের সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চান না।"
এর আগে সোমবার, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার একটি 'থাম্বস আপ' ইমোজি পাঠিয়ে ANI-এর সাংবাদিকের কাছে এই খবর নিশ্চিত করেন। কালি ঘোষ দস্তিদার জানান, "মোট ২০ জন তৃণমূল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এবং জাতীয় স্তরের সংসদীয় সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।"
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়ছে। এই নির্বাচনেই রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠিত হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। দলের এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়াদিল্লিতে কনস্টিটিউশন ক্লাবে 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। একদিকে যখন মমতা, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য অনুগত নেতারা বিরোধী জোটের বৈঠকে ছিলেন, তখন দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাংসদরা অন্য পথ বেছে নেন।