তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিদ্ধান্তকে 'অগণতান্ত্রিক' বলে তিনি জানিয়েছেন, দল এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবে। তবে সমাবেশ ২১ জুলাইতেই হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দল আদালতে যাবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি 'অগণতান্ত্রিক' এবং রাজ্য সরকার আসলে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে দমন করার চেষ্টা করছে।

২১ জুলাই নিয়ে কল্যাণের কড়া কথা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বলেন, দল সমাবেশের জন্য অন্য জায়গার কথা ভাবছে, কিন্তু অনুষ্ঠানটি ২১ জুলাইতেই হবে।
কল্যাণ বলেন, "২১ জুলাইয়ের জন্য আমরা যে আবেদন করেছিলাম, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন আলোচনা করছি পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, কোথায় সভা হবে। কিন্তু তারিখটা ২১ জুলাই-ই থাকবে। আমরা এর বিরুদ্ধে কোর্টে যাব, এটা অগণতান্ত্রিক। এই ধরনের কাজ চলতে পারে না।"
সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে, এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "এখনকার মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের কথা শুনতে ভয় পান। উনি সব গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, মিছিল বন্ধ করে দিতে চান। কিন্তু আমরা রাজনৈতিকভাবে এবং আইনিভাবে, দুই ময়দানেই লড়ব।"
সম্প্রতি পাশ হওয়া 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল'-এর প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ বলেন, "যারা অসামাজিক, তারাই একটা 'অসামাজিক' বিল এনেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।" কল্যাণ আরও যোগ করেন, "এরকম স্বৈরাচারী সরকার কেউ কখনও দেখেনি। উনি (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু) ইন্দিরা গান্ধী আর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের পথ ধরেছেন। বিরোধীদের চুপ করাতে যা যা করা দরকার, তাই করছেন। আমরাও এর মোকাবিলা করব। আমাদের জেল দেখিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না।"
তৃণমূলের যুযুধান গোষ্ঠীর দাবি শহিদ দিবস পালনের
উল্লেখ্য, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই ২১ জুলাই কলকাতার এসপ্ল্যানেড চত্বরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের সমাবেশ করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল।
এর আগে, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন জানান, ১৯৯৩ সালে নিহত ১৩ জন কর্মীর স্মরণে ১৯৯৪ সাল থেকে দল শহিদ দিবস পালন করে আসছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী গোষ্ঠী কীসের ভিত্তিতে পাল্টা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে, যখন তারা দলের নাম বা প্রতীক কোনওটারই অনুমোদন পায়নি। দোলা সেন লালবাজারে সাইবার ক্রাইম বিভাগেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখতে চেয়ে AITC কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়েছে। এর জন্য ১৯ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার অনুমোদনও চাওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের চিঠি প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়
'ইন্ডিয়া' জোটের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তকে লেখা চিঠি প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, "এটা ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেই ঠিক হয়েছিল যে আমরা সম্মিলিতভাবে প্রধান বিচারপতিকে একটি চিঠি পাঠাব। পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং বিহারে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি ছাপ্পা ভোট এবং ভোট চুরিতে জড়িত ছিল, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ইন্ডিয়া জোট।"
আম আদমি পার্টি (AAP) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম (DMK) সহ 'ইন্ডিয়া' জোটের দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য নির্বাচনী বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মিলিতভাবে CJI-কে চিঠি দেওয়ার পরেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসে।
সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে কল্যাণ কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "হাইকোর্ট বলেছে যে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে খারাপ এবং এই ঘটনাগুলি পশ্চিমবঙ্গের জন্য ক্ষতিকর। আদালত ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজি) নির্দেশিকা জারি করতে বলেছে। আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের কাজ ভুল এবং পুলিশকে অবশ্যই দোষীদের ধরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। দেখা যাক এরপর কী হয়।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূল যুব নেতা সৌমিত্র ব্যানার্জিকে পুলিশ আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ডিম ছোড়া হয়। এর আগে, কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ির বাইরে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দিকেও ডিম ছোড়া হয়েছিল।


