
Congress Attack On BJP Govt: 'অন্নপূর্ণা’ থেকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ, মূল্যবৃদ্ধি থেকে ‘বন্দে মাতরম্’—একগুচ্ছ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা কংগ্রেসের, এবার ১৫ দিনের আল্টিমেটাম। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অল-আউট অ্যাটাকে কংগ্রেস শিবির। অন্নপূর্ণা যোজনার স্বচ্ছতা, সীমানা পুনর্নির্ধারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণ, বন্যা ত্রাণে স্বজনপোষণ থেকে শুরু করে বাজারদরের রেকর্ড বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সব কটি ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের।
ডিমারকেশন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের ‘হটকারী’ সিদ্ধান্ত:- সরকারের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিমারকেশন সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘হটকারী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির স্পষ্ট কথা - "বিধানসভাভিত্তিক সেন্সাস বা জনগণনা সম্পন্ন না করে এভাবে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। কারণ এটি কোনওভাবেই বিজ্ঞানসম্মত বা সঠিক হবে না। এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আন্দোলন ও প্রতিটি জায়গায় ডেপুটেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।"
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়—কলেজগুলির পরিচালনা সমিতির মাথায় দলীয় বিধায়কদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার হৃতগৌরব ফেরাতে হলে রাজনীতিকদের বদলে সেখানে শিক্ষাবিদ ও অ্যাকাডেমিশিয়ানদের বসাতে হবে, তাঁরা যে রাজনৈতিক ভাবধারারই হোন না কেন। বিধায়কেরা নিজেদের এলাকায় ব্যস্ত থাকায় কলেজ পরিচালনায় সময় দিতে পারেন না, ফলে শিক্ষাঙ্গনে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে শ্বেতপত্রের দাবি ও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোপ:- নির্বাচনে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিকে সামনে রাখা হলেও বর্তমানে এর বাস্তবায়নে চরম অস্বচ্ছতা ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। কারা কত টাকা পাচ্ছেন, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না—তা পরিষ্কার করতে অবিলম্বে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক মহিলা চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ‘যাঁরা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের দেখব; বাকিরা রাস্তায় ঘোরাঘুরি করবে’—এই মন্তব্যের উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলা হয়, উনি কি শুধু একটি দলের মুখ্যমন্ত্রী? এই গণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক বার্তার পরও রাজ্যপালের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বন্যা ত্রাণে ‘অল-পার্টি ফরমেশন’ বা সব দলের সমন্বয়ের দাবি:*বন্যা পরিস্থিতিতেও ত্রাণ বন্টনে স্বজনপোষণ এবং দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ত্রাণ বিলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ দপ্তর ও সেচ দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে গ্রাম ও পঞ্চায়েত স্তরে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘অল-পার্টি ফরমেশন’ বা সমন্বয় কমিটি গড়ার দাবি তোলা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি বৈষম্য ছাড়াই সাহায্য পেতে পারে।
সেঞ্চুরির মুখে সবজি! বাজারদর ও জীবনযাত্রার চরম হাঁসফাঁস: সরকারের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া দামে সাধারণ মানুষের কালঘাম ছুটছে। খাদ্যসামগ্রীর দামের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ও টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়!
রাজ্যে একের পর এক নেতাকে কুপিয়ে খুন ও সহিংসতার ঘটনার কারণে কোনো শিল্পপতি বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা অপমান ও ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সকে কটাক্ষ করে বিরোধী নেতৃত্ব জানান, স্বাধীনতার জন্য বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুলের মতো মনীষীদের অবদান সর্বজনবিদিত—এর জন্য নতুন করে কারও কাছ থেকে পেটেন্ট বা সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সব কিছুর প্রতিবাদে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন - “ ১৫ দিন আমরা সময় দিচ্ছি। সরকারের এই অহংকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার তাগিদে এরপরেই আমরা বড় আন্দোলনে রাজপথে নামব।” সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম আর অন্নপূর্ণা যোজনা—একগুচ্ছ ইস্যুতে দেওয়া ১৫ দিনের এই আল্টিমেটাম রাজ্যের শাসকদলের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করে, এখন সেদিকেই নজর।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: On Yogi Adityanath's remarks regarding Rahul Gandhi's Manusmriti comments, West Bengal Congress President Shubhankar Sarkar says, "...Rahul Gandhi has not attacked it. Just as a new medicine is introduced when the initial one fails to cure malaria,… pic.twitter.com/AtGpJUCRhK
— ANI (@ANI) August 24, 2026
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।