
বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই নিউ টাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্য রাজনীতির একাধিক ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ‘’কে ভালো তৃণমূল কে খারাপ তৃণমূল এটা নিয়ে আমাদের কোনও মাথা ব্যথা নেই। সার্টিফিকেট দেওয়ার দরকার নেই। যারা অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত তাদের কাছে সমন যাবে এটাই স্বাভাবিক। সে কোন পার্টিতে আছে দেখা হবে না। হাজার হাজার লোকের কাছে নোটিশ গিয়েছে। বেআইনি কাজের তদন্ত হচ্ছে। কাল রাতে গেছিলেন মদন মিত্র। দেখা হয়নি। তাই সন্দীপনের বাবা স্বর্ণ কমল এর সঙ্গে দেখা করেছেন। উনি আগে ইডি অফিসারদের সঙ্গে দেখা করুন। নাহলে তো সন্দীপন ইডি থেকে বাঁচাতে পারবে না। ইডি ক্লিন চিট দিলে দেখা যাবে।''
‘’উনি নিজে কোন দিকে আছেন? কখন কোন দিকে যাচ্ছেন? সেটা আগে ঠিক করুন। উনি কনফিউজ। একটা পা কালীঘাটে। আরেকটা ঋতব্রতর দিকে। ১৯৮৯ সালে তৃণমূলের সূচনায় একই ধরনের জিনিস হয়েছিল। লোকসভা ভোটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গড়েছিলেন। তখন কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে এই ধরনের কনফিউশন তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল কোন দিকে যাবো? কংগ্রেস চিরকাল কনফিউজ। সারা দেশকে কনফিউজ করেছে। তার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাও কনফিউজ। এই ড্রামা চলছে। কিছু লোক বেরিয়ে এসেছে। কিছু ফিরে যাবে। কিছু লোক আলাদা গোষ্ঠী হয়ে কিছুদিন থাকবে। বাংলার রাজনীতিতে এই ড্রামা খোলাখুলি আমরা প্রথমবার দেখলাম। বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করুন এটুকুই বলব।''
‘’এই ধরনের প্রেসক্রিপশন অনেকে দিচ্ছেন। কিন্তু রোগ মাথায় উঠে গেছে। একটা হাত বা পা কেটে দিলে হবে না। রোগ অনেক গভীরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেনেশুনে মাথায় চড়তে দিয়েছেন। ওনার নাম করে সবাই যথেষ্ট খেয়েছে। এবার কাউকে বলির পাঁঠা করতে হবে। কিন্তু বহু এরকম লোক তৃণমূলে আছে যারা আজকের তৃণমূলের এই সর্বনাশের জন্য দায়ী।'
এদিন তিনি আরও বলেন, ‘’মৌলবাদের চাপে তসলিমা কে ঘরছাড়া করেছিল সিপিএম। ভারতের পরম্পরা বিশ্বের সমস্ত অত্যাচারিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাকে যারা তাড়িয়েছিল মানুষ তাদেরকে তাড়িয়েছে। সিপিএম যা করে গেছে তৃণমূল সেই মৌলবাদীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। তৃণমূলের জামা পরে মৌলবাদীরা যা ইচ্ছা করেছে। তার পরিণাম তৃণমূলকে ভুগতে হয়েছে।''
‘’কালীঘাটে করুন। কালীঘাট তৃণমূলে এখন কতজন লোক আছে সেটা ওরা নিজেও জানেনা। কালীঘাটে করলে লজ্জার হাত থেকে বাঁচবেন। কাদা নয়। কাদা গায়ে লেগে আছে। আসলে ব্রিগেডে করার লোক নেই। রেড রোডে যারা নামাজ পড়তেন তারা সুন্দর করে ব্রিগেডে নামাজ পড়েছেন। তৃণমূলের যদি দম থাকে ব্রিগেডে করুন। নাহলে ঘরের মধ্যে শহীদ দিবস করুন। ছবিতে মালা দিন। রাস্তায় করতে না পারলে সম্মানের সঙ্গে ঘরের মধ্যে করুন। কংগ্রেসের শহীদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গেলে প্রায়শ্চিত্ত হবে। সম্মান টাও বাঁচবে।''
‘’শ্যামলী পরিবহন বহুবছর ধরে বহু বাস চালায়। রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বাস চলে। মানুষ ওদের পরিষেবায় সন্তুষ্ট। সারাদেশে এই ধরনের একটি সংস্থা বাস চালালে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। বহু বেসরকারি সংস্থা বাস চালায়। বিলাসবহুল বাসের সুবিধা। ভালো রাস্তা। রাতে বাসে উঠবে সকালে পৌঁছে যাবে। ট্রেনে টিকিট পাওয়া যায়না। এটা ভালো সিদ্ধান্ত। ওদের ধন্যবাদ। কাল মহাদেব এক্সপ্রেস বাস শুরু হল ৫ টা শহরে। ভালো বাস পরিষেবা দরকার।''
আমার কাছে ৩০ টা রথ উদ্বোধনের আমন্ত্রণ এসেছে। আমি মায়াপুর ইস্কন যাচ্ছি। কাল কলকাতায় ইস্কনের রথে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাচীন অনেক রথ এবার সরকারি অনুদান পেয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি সেখানেও আমাদের কারুর না কারুর যাওয়া উচিৎ। সার্বিক সনাতন জাগরণ হয়েছে। এবার দুর্গাপুজো খুব ধুমধাম করে হবে। পরের বছর অভূতপূর্ব রামনবমী হবে।