Durga Puja Controversy: রাজনীতির অনুপ্রবেশ, ৩ দশকে দুর্গাপুজো বদলে হল 'উৎসব'

Published : Sep 01, 2026, 10:09 AM ISTUpdated : Sep 01, 2026, 10:34 AM IST
Durga Puja

সংক্ষিপ্ত

Durga Puja 2026: রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রথমবার হতে চলেছে দুর্গাপুজো। এবার পুজো শুরু হওয়ার দেড় মাস আগেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন পুজো নিয়ে সরগরম। পুজোর খাওয়া, থিম নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এশিয়ানেট নিউজ বাংলায় ফিরে দেখা গত তিন দশকে দুর্গাপুজোর বিবর্তন।

DID YOU KNOW ?
পুজো ঘিরে বিতর্ক
এবার দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মত শোনা যাচ্ছে।

Durga Puja: কয়েক দশক আগের কথা। এক বাংলা পত্রিকায় ১৪০০ বঙ্গাব্দের দুর্গাপুুজো নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হয়েছিল। ১৪০০ সালের পর থেকে বাংলায় দুর্গাপুজো আদৌ হবে কি না, হলে কীভাবে হবে, সে বিষয়ে অনেকে মতামত জানিয়েছিলেন। ১৪৩৩ সালে দুর্গাপুজোর আগে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাঙালি দুর্গাপুজোর সময় কী খাবে, মণ্ডপ কেমন হবে, দুর্গা প্রতিমার মুখ কেমন হবে, এসব নিয়ে বিতর্ক চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন দুর্গাপুজো নিয়ে সরগরম। যথারীতি পুজো নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সবাই নিজের রাজনৈতিক মত অনুযায়ী দুর্গাপুজোকে দেখতে চাইছেন।

৩ দশকে বদলে গেল দুর্গাপুজো

১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কলকাতা-সহ সারা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোয় থিমের মণ্ডপ বা প্রতিমা দেখা যেত না বললেই চলে। সেই সময় পুজো হত ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত। অনেক মণ্ডপেই ষষ্ঠীর দিন প্রতিমার হাতে অস্ত্র দেওয়া হত না। সপ্তমীতে দেবীর বোধনের পর অস্ত্র দেওয়া হত। তারপর ১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব চতুর্থী-পঞ্চমী-তৃতীয়ায় পুজো উদ্বোধন শুরু করল। পরে অন্য পুজো কমিটিগুলিও এই ধারা অনুসরণ শুরু করল। চার দিনের বদলে সাত-আট দিন ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা শুরু হল। ২০২২ সালে কসবায় এক মণ্ডপ ভাঁড় দিয়ে তৈরি হল। সেই পুজো মণ্ডপ নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ তৈরি হল, প্রতিমা বিসর্জনের পরেও শুধু মণ্ডপ দেখতেই বিশাল ভিড় হল। শেষে পুলিশ মণ্ডপ ভেঙে দিতে বাধ্য করল। এরপর থেকে বিভিন্ন মণ্ডপে থিম দেখা যাচ্ছে।

পুজোয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ

বাম আমল থেকেই পুজোয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ দেখা যাচ্ছে। বামেরা কোনওদিন প্রকাশ্যে দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকত না। কিন্তু প্রভাব খাটাত। সেই আমল থেকেই দুর্গাপুজোকে ‘উৎসব’ বলে প্রচার শুরু হয়। তারপর ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রচার শুরু হয়, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, তাঁর কাছে দুর্গাপুজো নয়, উৎসব। এর প্রতিবাদ করেন সেই সময় রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) আমলেই দেখা যায়, বিভিন্ন জেলায় কন্যাশ্রী-সহ নানা সরকারি প্রকল্পের থিমে মণ্ডপ। মমতা কয়েক হাজার পুজো উদ্বোধন শুরু করেন। দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগেই পুজো উদ্বোধন শুরু করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অনেক মণ্ডপে প্রতিমার চক্ষুদানও শুরু করেন। মণ্ডপে তাঁর লেখা ও গাওয়া গান বাজানো শুরু হয়। পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। তৎকালীন শাসক দলের নেতারা নিদান দেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মণ্ডপে পোস্টার না থাকলে পরের বছর থেকে অনুদান বন্ধ। কবে পুজো শুরু হবে, কবে প্রতিমা বিসর্জন হবে, সবই ঠিক করে দেওয়া শুরু করে সরকার ও শাসক দল। সেই সময় শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ যেমন বেড়ে গিয়েছে, তেমনই তাঁদের প্রভাবিত পুজোও আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে। পুজোকে সামনে রেখে তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে। এবার রাজ্যে শাসক দল বদলে গিয়েছে। পুজোয় নতুন করে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ হবে কি না সময় বলবে। তবে পুজোর বিশুদ্ধতা বজায় রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। উৎসব হতেই পারে, কিন্তু তা যেন পুজোকে ছাপিয়ে না যায়। কারণ, শক্তির আরাধনাই প্রধান। সেটাই দুর্গাপুজোর মূল উদ্দেশ্য।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
১৬
১৬ অক্টোবর এবারের দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী।
১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মাধ্যমে এবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। এবার পুজোর বিশুদ্ধতা বজায় রাখার দাবি উঠছে।
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Today’s News in Bengali Live: Durga Puja Controversy - রাজনীতির অনুপ্রবেশ, ৩ দশকে দুর্গাপুজো বদলে হল 'উৎসব'
Jadavpur Protest: "আমাদের অনেক কমরেডদের মেরেছে!" যাদবপুর ক্যাম্পাসে 'স্যালুট কিষেনজি' স্লোগানের তীব্র বিরোধিতা করল এসএফআই