বিরোধীদের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফাইলটি নিয়ে বেরিয়েছেন তাতে এমন কিছু থাকতে পারে যা সবার সকলের সামনে এলে তৃণমূলের জন্য ক্ষতি। তাই তড়িঘড়ি তিনি ওই ফাইলটি বুকে আগলে করে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ দায়ের করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডি অভিযোগ করেছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশির জায়গায় প্রবেশ করে জোর করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যেমন নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নিয়ে গেছেন।
210
তল্লাশি চলাকালীন আই-প্যাক ডিরেক্টরের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশ
ইডি-র পিটিশনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশি চলাকালীন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং পুলিশ কর্মীদের সাহায্যে আধিকারিকের কাছ থেকে সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি নিয়ে চলে যান। ইডি-র দাবি অনুযায়ী তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি বাজেয়াপ্ত করেন।
310
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাকের যোগসূত্র
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাকের যোগসূত্র, হাওয়ালার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ইডি-র। ইডি-র তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে কয়লা পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে আই-প্যাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
ইডি স্পষ্ট করেছে যে এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযানের একটি অংশ। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। সম্পূর্ণ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে, জানাল ইডি।
510
রাজ্য পুলিশ আইন মেনে কাজ করেনি
ইডি-র অভিযোগ, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং ডিসিপি (দক্ষিণ) সহ পুলিশ আধিকারিকরা তল্লাশিতে বাধা দেন, যার ফলে তাদের আদালতের হস্তক্ষেপ চাইতে হয়েছে। ইডি আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে, এই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
610
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু
এদিকে, কলকাতার সল্টলেকে I-PAC-এর অফিস এবং I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত (I-PAC ED Raid) চলাকালীনই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় ভিতরে থাকার পর তাঁকে বুকে আগলে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
710
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
এর কিছুক্ষণ পর মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও যান। সেখানেও তাঁর এক সহযোগীকে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে কিছু ফাইল তুলতে দেখা যায়। এই দুই ঘটনাই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেয়।
810
সবুজ ফোল্ডারে কী থাকতে পারে?
তৃণমূলের মতে, ভোটের আগে প্রার্থী তালিকা তৈরির জন্য যে সমীক্ষার কাজ হয়, সেই দায়িত্ব I-PAC পালন করে। বিজেপি যেমন এই ধরনের কাজ শুরু করেছে, তেমনই তৃণমূলও করেছে। সেই মত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা, নাম-ধামের খুঁটিনাটি তথ্য, ভোটকৌশল এবং ধাপে ধাপে কীভাবে প্রচার চালানো হবে, এই সব নকশা আইপ্যাকের অফিস বা প্রতীক জৈনের বাড়িতে থাকাই স্বাভাবিক।
910
বিরোধী শিবিরের ধারণা
তবে বিরোধী শিবিরের ধারণা অন্য। বিরোধীদের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফাইলটি নিয়ে বেরিয়েছেন তাতে এমন কিছু থাকতে পারে যা সবার সকলের সামনে এলে তৃণমূলের জন্য ক্ষতি। তাই তড়িঘড়ি তিনি ওই ফাইলটি বুকে আগলে করে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।
1010
আসন্ন নির্বাচনে যথেষ্ট প্রভাব
কার্যত গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার (I-PAC ED Raid) প্রেক্ষিতে একাধিক মামলা জারি হয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশ এবং ফাইল, হার্ডডিক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনেই বিধানসভা ভোট, তার আগে এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।