আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির কারণে ইডি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আইপ্যাক কাণ্ডে (IPAC ED RAID) সরাসরি কোনও মন্তব্য করলেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (West Bengal Governor C V Ananda Bose)। বিষয়টি বিচারাধীন বলে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছে। তবে, বলেছেন, আইন সব সময়ই আপনার ঊর্ধ্বে। রাজ্যপাল আরও বলেন, 'প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও উপায়ে আইন প্রয়োগ করা হবে। যেহেতু বিষয়টি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন, তাই আমরা রায়ের জন্য অপেক্ষা করি, তারপর আমি আমার মন্তব্য জানাব।'

I-PAC সল্টলেকের অফিসে ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালায় ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। তল্লাশি চলার সময় সেখানে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সেখান থেকে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ ও ফোন বের করে নিয়ে আসেন। সেই ছবি দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি আইপ্য়াকের অফিস থেকেই কয়েকটি ফাইল বের করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইডি। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ও আধিকারিদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন। এমনকী তল্লাশি চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে গিয়েছেন। সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির মধ্যেই নথি ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। আইপ্যাক-র দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) যাওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। এছাড়াও মামলা করা হয়েছে। একই বেঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দায়ের করা পাল্টা মামলাটিও উঠছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, ইডি ও তৃণমূলের জোড়া মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে। ইডি-র করা মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) যুক্ত করা হচ্ছে।

আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির কারণে ইডি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র অভিযানের পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমেপ্লেক্স থানাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

আইপ্যাকের দফতর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় কীভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে ইডি-র কাছে রিপোর্ট চাইল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ। ED-র তল্লাশি অভিযানের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোন কোন পুলিশ অফিসার I-PAC প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও অফিসে পৌঁছে হয়েছিলেন? ED-র কাছ থেকে তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিকে, শুক্রবারই আইপ্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। ছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়রা। সেই সময়ই তাঁদের দিল্লি পুলিশ হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। জানা যাচ্ছে, মহুয়া মৈত্রকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি সাত সাংসদ এখনও থানাতেই রয়েছেন।