
কলকাতার দুর্গাপুজোয় এবার মহাভারত থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর চমক। ইসি ব্লক এবং নিউটাউনের পুজো মণ্ডপে থাকছে এমনই অভিনব থিম, যা দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।
ইসি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবার তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে। আর এই বিশেষ বছরে তাদের পুজো মণ্ডপের থিম হলো মহাকাব্য 'মহাভারত'। মণ্ডপের ভেতরে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহাভারতের ১৮টি পর্ব তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে এলেই মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও চরিত্রগুলোর দেখা পাবেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভীষ্ম পিতামহের মৃত্যুর মতো মহাভারতের বেশ কিছু প্রভাবশালী দৃশ্য এই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মণ্ডপের শুরুতেই দেখা যাবে ভগবান গণেশ মহাভারত লিখছেন। আর শেষ হচ্ছে যুদ্ধের পর যুধিষ্ঠিরের হস্তিনাপুর যাত্রার দৃশ্য দিয়ে। এর ঠিক পরেই রয়েছে স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি।
যারা টিভিতে মহাভারত দেখেছেন, এই প্রদর্শনী তাদের পুরনো স্মৃতি উসকে দেবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছেও এই মহাকাব্যকে তুলে ধরাই উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য। মণ্ডপে দেবী দুর্গার মূর্তিও বেশ অন্যরকম, যা মূলত শান্তির প্রতীক।
মণ্ডপটি তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন মাজি। অ্যাসোসিয়েশনের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পী ও আয়োজকরা মিলে এই বিশেষ থিমটি ভেবেছেন।
এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় ইসি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মৌলিনাথ মাজি বলেন, "আমাদের এবারের থিম মহাভারত। এর আগে কোনো মণ্ডপে মহাভারত থিম হয়নি। আমরা এখানে মহাভারতের ১৮টি পর্ব দেখাচ্ছি। মা দুর্গার পাশাপাশি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভারতের পুরো মহাকাব্যটাই আমরা তুলে ধরছি। মা দুর্গার ঠিক সামনেই দেখতে পাবেন গণেশজি মহাভারত লিখছেন। এখান থেকেই আমাদের শুরু। আর শেষ হচ্ছে যুধিষ্ঠিরের হস্তিনাপুর যাওয়ার দৃশ্য দিয়ে। এরপর মায়ের স্বর্গে যাওয়ার রথ হিসেবে একটি সিঁড়ি রাখা হয়েছে।"
যারা টিভিতে মহাভারত দেখেছেন, এই প্রদর্শনী তাদের পুরনো স্মৃতি উসকে দেবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছেও এই মহাকাব্যকে তুলে ধরাই উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য। মণ্ডপে দেবী দুর্গার মূর্তিও বেশ অন্যরকম, যা মূলত শান্তির প্রতীক।
মাজি আরও বলেন, "টিভিতে মহাভারত দেখার সেই পুরনো স্মৃতি দর্শনার্থীদের মনে ফিরে আসবে। আর নতুন প্রজন্মও মহাভারত সম্পর্কে একটা ধারণা পাবে। মা দুর্গার মূর্তিটি এখানে শান্তির প্রতীক। মণ্ডপটি তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে। আমাদের ৫০তম বছরকে স্মরণীয় করে রাখতেই শিল্পী ও আয়োজকরা মিলে এই বিশেষ ভাবনাটি রূপায়ণ করেছেন।"
ইসি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মণ্ডপে যেখানে মহাভারত দেখা যাচ্ছে, সেখানে নিউটাউনের একটি পুজো মণ্ডপ আবার জেন-জি এবং জেন-আলফাকে ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়তে চাইছে। তাদের থিমে উঠে এসেছে এআই, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতির কথা।
নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো এই মণ্ডপের আয়োজক। তাদের এবারের থিম 'সনাতন থেকে বিজ্ঞান'। দেবী দুর্গা এবং বিজ্ঞানের এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে এই মণ্ডপে। মা দুর্গার মূর্তির পাশাপাশি এখানে এআই, রোবট এবং সমাজের আধুনিক অগ্রগতির নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর আয়োজক বরুণ বিশ্বাস এএনআই-কে বলেন, "২০২২ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের আমন্ত্রণ জানান এবং নিউটাউনে একটি দুর্গাপুজো করার পরামর্শ দেন। এভাবেই এই পুজোর শুরু। ২০২২ সালে আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে পুজো করেছিলাম। ২০২৩ সালেও পুজো করার জন্য আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। তবে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সরকার আমাদের পুজো করার অনুমতি দেয়নি।
বরুণ আরও বলেন, "তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু প্রতি বছর এই পুজোর উদ্বোধন করতেন। তাছাড়া আমাদের পুজোর নামের সঙ্গে 'সনাতনী' শব্দটি যুক্ত রয়েছে। এসব কারণেই আগের সরকার আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। তবে এ বছর আমরা বেশ বড় করেই পুজো করছি। এবারের থিম 'সনাতন সে বিজ্ঞান'। প্রাচীন সনাতনী মুনি-ঋষিদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান কীভাবে সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত, এই থিমের মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্মকে সেটাই শেখাতে চাই।"
দুর্গাপুজো হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসব। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের অন্যান্য অংশে অত্যন্ত ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়। মহিষাসুরকে বধ করে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করেই এই পুজো হয়, যা অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এই উৎসবে সুন্দর মণ্ডপ, শৈল্পিক প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তিমূলক গানের মাধ্যমে সব স্তরের মানুষ এক ছাদের তলায় আসেন।
মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী হলো এই পুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ধর্মীয় তাৎপর্যের বাইরে গিয়েও এই উৎসব শৈল্পিক প্রকাশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মানুষের অংশগ্রহণ এবং ঐক্যের বার্তাকেই উদযাপন করে।