
কলকাতার পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের দেহ রবিবার তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল। শনিবার সন্ধ্যায় একটি দুর্গা পুজো মণ্ডপে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে আহত হন।
মৃতদের মধ্যে ২৭ বছরের এক নার্সও ছিলেন। তাঁর মৃতদেহ হুগলিতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর এক আত্মীয় সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, ডিউটি শেষ করে ওই তরুণী তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পুজো দেখতে গিয়েছিলেন।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে এই ঘটনার পর রবিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তদন্তের জন্য খুব তাড়াতাড়ি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হবে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিট গঠনের অনুমতির জন্য মুখ্যসচিব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখবেন। তিনি বলেন, "একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে এই সিট গঠন করা হবে। মুখ্যসচিব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবেন। অনুমতি পেলেই আমরা দ্রুত সিট গঠন করব।"
গ্রেফতারি এবং আহতদের অবস্থা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ২৫ জন আহতের মধ্যে ২ জন এখনও আইসিইউ-তে রয়েছেন। বাকি ২৩ জনের চিকিৎসা শেষের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।" তিনি জানান, রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মুখ্যসচিব, পুলিশ কমিশনার, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং অন্যান্যদের সাহায্যে আমি নিজে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। পুরো সরকার এখন এই কাজে ব্যস্ত। আমরা কেউ ছুটি কাটাচ্ছি না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করছি না। সংবাদমাধ্যমের কাছে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কোনও বিবৃতিও দিচ্ছি না।"
ঘটনার পর প্রতিমা নিরঞ্জন এবং নদীর ঘাটে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটাও জানান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান।
এদিকে, এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজ কুমার সেওদা ওরফে রাজা, সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে এবং বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয়। এছাড়াও ভিড় সামলানো এবং ভিআইপি পাস চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ আয়োজক এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় নিজে থেকেই মামলা দায়ের করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ জনকে আটকও করা হয়েছে। কোনওরকম অশান্তি এড়াতে ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং একজনের চাকরির কথা ঘোষণা করেছে। কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-ও তদন্ত শুরু করেছে।