lakshmi bhandar: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা থেকে ২২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সম্ভাব্য উপভোক্তা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যাায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছিল। কিন্তু নতুন সরকার এসে চালু করছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাবেন তারাই তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তা হতে পারেন।
210
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বিতর্ক
তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার শুরু হওয়ার আগেই বিতর্ক চালু হয়েছে। নাম বাদ পড়া নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে নতুন সরকার ঘোষণা করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
310
সংখ্যায় গরমিল
পূর্বতন সরকারের শেষ অন্তর্বর্তী বাজেটে দেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা সংখ্যা বর্তমান সরকারের হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ উপভোক্তা ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে একের পর এক পুরুষ উপভোক্তার কথা সামনে আসছে , লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধে পেতেন।
অন্তবর্তী বাজেটে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের সংখ্যা ২ কোটি ২১ লক্ষ। তার সঙ্গে নতুন ২০ লক্ষের নাম যুক্ত করা হয়েছে। সবমিলি মমতার জমানায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা। তেমনই দাবি করেছিলেন দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শশী পাঁজা।
510
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি
বুধবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। কিন্তু সেই তালিকা থেকেও তাঁর সরকারের আমলে ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। কারণ হয় তাঁরা ভুয়ো না হলে তাদের নাম এসআইআর-এ ওঠেনি।
610
উপভোক্তা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান সরকারের হিসেব অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধে বর্তমানে পাবেন ১ কোটি ৯০ লক্ষ। ৩০ লক্ষ 'অবৈধ' প্রপকের নাম বাদ দিয়েও প্রশ্ন উঠছে ২২ লক্ষ উপভোক্তাকে নিয়ে। সেই ২২ লক্ষ উপভোক্তা কোথায় গেল? এই ২২ লক্ষের হিসেব এখনও মিলছে না সাধারণ মানুষের কাছে।
710
হিসেব মিলছে না
অন্তর্বর্তী বাজেটে পূর্বতন সরকার ঘোষিত ২ কোটি ২১ লক্ষের অঙ্কেই অনড় থাকতে চাইছে নয়া প্রশাসন? সেই হিসাব কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। তারপর যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা কি প্রথম দফাতেই বিনা কারণে বাদ পড়লেন? তার উত্তর নেই এখনও প্রশাসনের কাছে।
810
নবান্ন সূত্র
নবান্নের একটি সূত্র বলছে তথ্য ঝাড়াই বাছাই হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে একাধিক ভুয়ো বা অবৈধ প্রপক। তাই আরও কিছুটা সময় গেলেই স্পষ্ট হবে রাজ্যের বিজেপি সরকার ঠিক কতজনকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধেদেবে। কারণ শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছিলেন কোনও ভুয়ো বা মৃত বা অবৈধ মানুষ যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধে না পায় সেই দিকেই তিনি নজর দেবেন।
910
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প
পালাবদলের পর চলতি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হবে না বলেই কথা দিয়েছিল রাজ্যের নতুন সরকার। এমনকি বলা হয়েছিল, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁরা সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের তালিকায় অসংগতি মেলায়, ফের সকলে আবেদনপত্র দাখিল করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। তা যাচাই করেই পর্যায়ক্রমে অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় সংযোজিত হবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা।
1010
৩ মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
অন্নপূর্ণার তালিকায় সংযোজন না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী তিন মাস তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। কিন্তু, অন্নপূর্ণার টাকা পেতে হলে তার মধ্যে ১২ পাতার আবেদনপত্রে পরিবারের নাড়িনক্ষত্র সব দিতে হবে।