
Demise of Mani Sankar Mukherjee: প্রয়াত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। যিনি সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে 'শংকর' নামেই পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই দিকপাল সাহিত্যিক। মাস দু'য়েক আগে পড়ে গিয়ে তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। সেই চোটের কারণে তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাড়ি ফিরে যেতে পেরেছিলেন। তবে চলতি মাসের শুরুতে তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ভালো করে খেতে পারছিলেন না, প্রাণশক্তিও ফুরিয়ে আসছিল। এই কারণে তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার আর চিকিৎসায় সাড়া দিলেন না শংকর। তাঁর লেখনী থেমে গেল।
শংকরের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস 'স্বর্গ মর্ত পাতাল'। শুক্রবার সেখানেই তিনি বিলীন হয়ে গেলেন। তাঁর যে উপন্যাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, তা হল 'চৌরঙ্গী'। এছাড়া 'জন অরণ্য', 'যেখানে যেমন', 'কত অজানারে', আশা আকাঙ্খা, 'ঘরের মধ্যে ঘর', 'চরণ ছুঁয়ে যাই'-এর মতো জনপ্রিয় সাহিত্যকর্মও রয়েছে। তাঁর রচনার মধ্যে দিয়েই সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে থাকবেন শংকর।
শংকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। 'চৌরঙ্গী' থেকে 'কত অজানারে', 'সীমাবদ্ধ' থেকে 'জনঅরণ্য'—তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তাঁর প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।'
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।