
New Market Fire: মির্জা গালিব স্ট্রিটকাণ্ডের জেরে এবার আরও তৎপর পুলিশ। কলকাতায় হোটেল 'শিখা ইন'-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ দমকলের। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে দমকল। দমকল সূত্রে খবর, এর আগেও অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এবার ফের নোটিসের পরও নিয়ম না মানলে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দমকলের। অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এবং দুজন ভারতীয়। তারা হলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা ৬৮ বছরের যোগ নারায়ণ অগ্রবাল এবং ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা ১৯ বছরের সন্দীপ পাসোয়ান। সন্দীপ কলকাতায় জীবনের প্রথম চাকরি করতে এসেছিলেন। অগ্নিদ্বগ্ধ হোটেলে কিছুদিন আগেই তিনি রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শটসার্কিট থেকে আগুন লাগলে ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে রিসেপশনে।
এমনকি আরও অভিযোগ উঠেছে যে, হোটেলে কোনও রকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিলো না। জায়গা কম থাকায় ঘরগুলিতে স্লাইডিং ডোর। এবং উপরে একটায় ফলস সিলিং ছিলো। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের সদর দফতর থেকে এই বিল্ডিংয়ের দূরত্ব মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। কলকাতা পুরসভাও রয়েছে ৯৫০ মিটারের মধ্যে। এত অব্যবস্থা, অনিয়ম কেন কারও চোখে পড়েনি, প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মালিক পলাতক। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে হোটেলে লিজ হোল্ডার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের নাম আবু জাফর। এন্টালি মেন মার্কেট এরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার ও একজন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের। বুধবার গভীর রাতে হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এন্টালি মেন মার্কেট এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে অগ্নিকাণ্ডের আগে ও পরে হোটেলে কী পরিস্থিতি ছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।