সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগে দিলেন প্রতীক-উর রহমান। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানের পর রাজ্যে অনেক লাল শিবিরের নেতাই দিদির হাত ধরেছেন। এই প্রতিবেদনে দেখে নেওয়া যাক রাজ্যের দশজন প্রভাবশালী বাম নেতা বা মন্ত্রী যারা তৃণমূলে নাম লেখান।
জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের তিন মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রিসভাতেই একটা কমন নাম ছিল। তিনি হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার দাপুটে প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। ১৯৭২ সালে ভাঙড় বিধানসভা থেকে সিপিএমের টিকিটে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন রেজ্জাক মোল্লা। তিনি প্রথম বার রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৮২ সালে। বামফ্রন্টের ভূমি সংস্কার দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। ঠোঁটকাটা, স্পষ্টবক্তা, নিজেকে চাষার ব্যাটা পরিচয় দেওয়া আব্দুর রজ্জাক মোল্লা ২০১১ বিধানসভা ভোটের পর তাঁর পুরনো দল সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১১ বিধানসভা ভোটে বামেদের হারের পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে তোপ দেগে বলেছিলেন, 'হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে এসেছে।' এরপর ২০১৪ সালে দল তাঁকে বহিষ্কার করে। তারপর ২০১৬ বিধানসভা ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। দিদির হাত ধরেই ২০১৬ বিধানসভায় ভাঙড় থেকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন, পরে রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী হন। গত বছর ৮০ বছর বয়েসে তিনি প্রয়াত হন।
210
২) উদয়ন গুহ (মন্ত্রী, দিনহাটার বিধায়ক)
উত্তরবঙ্গে এক সময় অন্যতম বড় নেতা-মন্ত্রী কমল গুহর ছেলে উদয়ন গুহ দীর্ঘদিন বামফ্রন্টের দল ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাম আমলে ছিলেন কমল গুহ ছিলেন কৃষিমন্ত্রী। পালা বদলের পর তাঁর ছেলে উদয়ন দিনহাটা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক, তারপর মন্ত্রী হন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এখন দিদির বড় ভরসার পাত্র।
310
৩) পূর্ণেন্দু বসু (রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী)
নকশাল আন্দোলন করেছেন। জেল খেটেছেন। কট্টর বাম নেতা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আসেন। পালাবদলের পর রাজারহাট গোপালপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক, তারপর মমতা মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছের লোক হিসাবে পরিচিত ছিলেন, রাজ্যসভায় বামেদের যুব কণ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অনেকেই বলতেন, সিপিএমে তাঁর উত্থানটা ধুমকেতুর মত হয়েছিল। কিন্তু যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সিপিএম থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। শ্রমিক নেতা ঋতব্রত এরপর তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজ্যসভায় তাঁকে পাঠায় তৃণমূল।
510
৫) দশরথ তিরকে (আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ)
কুমারগ্রামের তিনবারের আরএসপি বিধায়ক দশরথ তিরকে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। দলবদল করে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হন। তবে ২০১৯ লোকসভা ভোটে পরাস্ত হন সেই সময় বিজেপিতে থাকা জন বার্লার কাছে।
610
৬) অন্তত দেব অধিকারী (ময়নাগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক)
২০১১ বিধানসভা ভোটে আরএসপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন অনন্ত দেব অধিকারী। কিন্তু এরপর রাজ্যসভার ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের সময় হওয়া ময়নাগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়ে বড় ব্যবধানে জেতেন। ২০১৬ বিধানসভাতেও দিদির দলের প্রার্থী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন।
710
৭) রফিকুল ইসলাম মণ্ডল (বসিরহাটের বিধায়ক)
2016 বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের টিকিটে জিতে বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। সেই রফিকুল ২০২০ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপরই ২০২১ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে জিতে বসিরহাট উত্তরে দিদির দলের জনপ্রতিনিধি হন।
810
৮) নবীন চন্দ্র বাগ (খণ্ডঘোষের বিধায়ক)
পূর্ব বর্ধমানের সিপিআইএম বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগ ২০১৫ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১১-র ভোটে গোটা রাজ্যে সিপিএম পরাস্ত হলেও কাস্তে হাতুড়ি চিহ্নে লড়ে জিতেছিলেন নবীন চন্দ্র বাগ। এরপর শিবির বদল করে ২০১৬ বিধানসভায় খণ্ডঘোষ থেকে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন নবীন। ২০২১ বিধানসভা ভোটে খণ্ডঘোষ কেন্দ্রে দিদির প্রার্থী নবীন চন্দ্র ঘোষ হারান বিজেপির বিজয় মণ্ডলকে।
910
৯) সুনীল মণ্ডল (বর্ধমান পূর্বের প্রাক্তন সাংসদ)
বর্ধমানের গলসির প্রাক্তন ফরোয়ার্ড ব্লক বিধায়ক ২০১৪ সালে তৃণমূলে নাম লেখান। এরপরেই লোকসভা ভোটে বর্ধমান পূর্ব থেকে জোড়া ফুল চিহ্নে লড়ে সাংসদ হন সুনীল। পরে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও, ২০২১ সালের পর আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন।
1010
১০) ছায়া দোলুই (চন্দ্রকোণার প্রাক্তন বিধায়িকা)
২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে চন্দ্রকোনায় সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়ে দারুণ জয় পেয়েছিলেন ছায়া দোলুই। কিন্তু এরপর ছায়াদেবী যোগ দেন তৃণমূলে। ২০১৬ বিধানসভায় চন্দ্রকোণা থেকে তৃণমূলের টিকিটে হারিয়ে ফের জয় পান।