২০১৭ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার তিন বছর পর তৃণমূলে যোগ দেন। শিক্ষিত, দক্ষ সংগঠক ঋতব্রত-কে দলের শ্রমিক শাখার দায়িত্ব দেন মমতা। ২০২৪ সালে ঋতব্রত-কে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল। এবার একেবারে সরাসরি ভোট ময়দানে নামানো হল সিপিএমর প্রাক্তন সাংসদকে। উলুবেড়িয়া পূর্বের দুর্গ ধরে রাখতে তারকা ফুটবলার বিদেশ বসুর জায়গায় ঋতব্রত-কে প্রার্থী করেছেন মমতা। ২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জহর সরকারের পদত্যাগের পর সেই আসনে তৃণমূল ঋতব্রত-কে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল।
29
বুদ্ধদেবের প্রিয় পাত্র থেকে মমতার কাছের লোক
শিক্ষিত, অনর্গল ইংরেজি ও মার্কসীয় দর্শন নিয়ে কথা বলতে পারা ঋতব্রত-কে বেশ পছন্দ করতেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বিরোধীরা অনেকেই সেই সময় ঠাট্টা করে বললেন, ঋতব্রত হলেন বুদ্ধবাবুর ব্লু আইড বয়। ২০১৪ সালে সিপিএম তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়। কিন্তু এক যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ঋত একেবারে তলিয়ে যান। যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এই ছাত্র নেতা সিপিএমে একেবারে কোণঠাসা হওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দাগেন।
এরপর ২০১৭ সালে ঋতব্রতকে বহিষ্কার করে সিপিএম। সিপিএমে একেবারে ধূমকেতুর মতো উত্থান, উল্কার মতো পতনের পর পরে তৃণমূলে যোগ। বুদ্ধবাবুর এক সময়ের প্রিয় পাত্র ঋতব্রত এরপর দিদির কাছের হয়ে যান। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর এক সাক্ষাতকারে ঋতব্রত বলেছিলেন, "মমতার মধ্যেই লেনিনকে দেখেছি।"
39
যৌন কেলেঙ্কারি
২০১৭ সালের অক্টোবরে এক তরুণী সেই সিপিএমের সাংসদ থাকা ঋতব্রতের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই তরুণী তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন এবং ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। এরপর ঋতব্রত-র একের পর এক আপত্তিকর, অশ্লীল ভিডিও, ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ঋতব্রত-র যৌন কেলেঙ্কারিতে অস্বস্তিতে পড়ে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা। ঋতব্রত-র যৌন কেলেঙ্কারির তদন্তে সিআইডি তদন্ত শুরু হয় এবং নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরই সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে।
উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনে ঋতব্রত-র বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী দিতে দেরি করছে। সিপিএম প্রার্থী না দিয়ে আইএসএফ-কে ছেড়েছে। ঋতব্রত তাই ভোটপ্রচারের শুরুতে খালি জমি পেয়েছেন। উলুবেড়িয়া পূর্বে বামফ্রন্টের সমর্থনে আইএসএফ প্রার্থী শুরু থেকেই লড়াইয়ে আছেন। কংগ্রেস এখানে দাঁড় করিয়েছে আলম দেইয়ান-কে। গত কয়েক বছর ধরেই উলুবেড়িয়ার এই আসন তৃণমূলের শক্ত গড়। তবে বিদায়ী বিধায়ক বিদেশ বসুকে নিয়ে ক্ষোভ আর তৃণমূলের নিচুতলার অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বিজেপি ভাল প্রার্থী দাঁড় করালে ঋতব্রতর প্রথমবার বিধায়ক হওয়ার কাজ কঠিন হয়ে যেতে পারে। গত বিধানসভা ভোটে এই আসনে ১৭ হাজার ভোটে বিজেপির প্রত্য়ুষ মণ্ডলকে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদেশ বসু। আইএসএফ প্রার্থী এখানে গতবার ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
59
পক্ষে-বিপক্ষে
ঋতব্রতর পক্ষে- শিক্ষিত, সুবক্তা, সু-সংগঠক, পরিশ্রমী, দলের শ্রমিক সংগঠনে আধিপত্য।
ঋতব্রতর বিপক্ষে- যৌন কেলেঙ্কারির দাগ, উলুবেড়িয়ায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার অভাব, দলবদলু ও বহিরাগত তকমা থাকা।
69
শিক্ষাগত যোগ্যতা
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা। এরপর আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ (MA) ডিগ্রি অর্জন করেছেন ।
২০১১ সাল থেকে উলুবেড়িয়া পূর্বে বারবার তৃণমূল জিতে আসছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় এই কেন্দ্রে সংখ্য়াগত সুবিধা পায় তৃণমূল। তবে গত বিধানসভা ভোটে উলুবেড়িয়া পূর্বে তৃণমূল বিরোধী ভোট পড়েছিল প্রায় ৯০ হাজার। সেখানে তৃণমূল পায় সাড়ে ৮৬ হাজার ভোট। কিন্তু বিরোধীদের ভোট বাক্সে বড় ভাগ বসিয়েছে আইএসএফ। গত বিধানসভা ভোটে এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী বিদেশ বসু ৪৫ শতাংশ ভোট পান। সেখানে বিজেপি ৩৬ শতাংশ ও আইএসএফ ১৬ শতাংশ ভোট পায়। তবে গতবার আইএসএফের পিছনে বামেদের পাশাপাশি কংগ্রেসের সমর্থনও ছিল। এবার কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এবারও বিরোধী ভোট ভাগাভাগির অঙ্কে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের 'অ্যাডভান্টেজ' থাকছে।