বিধানসভায় কানাঘুসো, ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক রয়েছেন তাঁর পাশে। তৃণমূল বিধায়কদের সই করা চিঠি তিনি জমা দিতে গিয়েছিলেন। তবে ঋতব্রত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজেই তিনি বিধানসভায় গিয়েছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই তৃণমূলের একাধিক নেতামন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। একের এক নেতানেত্রী দলীয় পদ ছাড়ছেন। এরইমধ্যে সইজাল-কাণ্ডের জেরে তৃণমূলের ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল তৃণমূলের অন্দরে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে কারও নামে সিলমোহর দেননি স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত হননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি গিয়েছিলেন বিধানসভায়। বিধানসভায় কানাঘুসো, ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক রয়েছেন তাঁর পাশে। তৃণমূল বিধায়কদের সই করা চিঠি তিনি জমা দিতে গিয়েছিলেন। তবে ঋতব্রত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজেই তিনি বিধানসভায় গিয়েছিলেন।

এদিকে, ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় এসেছেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রয়েছেন হাওড়া মধ্যর বিধায়ক অরূপ রায়। ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি। মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস, কুলপির বিধায়ক বর্ণালী ধারা, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা, সামসেরগঞ্জের বিধায়ক মহম্মদ নূর আলম, হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, রয়েছেন লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি এনামুক হকের জামাই, ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন, সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আক্রুজ্জামান, খড়্গপুরের বিধায়ক দিনেন রায়, সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা, চন্দ্রনাথ সিনহা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা।

তৃণমূল কার দখলে যাবে, এ নিয়ে শুধু হয়েছে টানাপড়েন। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি পাঠান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কলকাতায় নেই বলে সেই চিঠি অবশ্য বিধানসভায় গ্রহণ করা হয়নি। পাশাপাশি, বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা ৫২ থেকে ৫৫ জন বিধায়কের তালিকা সংবলিত চিঠি স্পিকারের কাছে দিয়ে প্রকৃত বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করবে! আর সেই দাবিমতোই বুধবার সকালে হাজির হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এখন দেখার, দলের রাশ কি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে, না কি বিদ্রোহী শিবিরের হাতে যাবে।