
এবার বিধানসভা ভোটে টানা চারবার জিতে ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ে নেমে কঠিন চ্য়ালেঞ্জের মুখে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, রাজ্যের নানা দুর্নীতি-অনিয়ম, গণবিক্ষোভ ও বিজেপি আজাদল খেয়ে নামায় তৃণমূলকে চাপে দেখাচ্ছে। এই প্রতিবেদনে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৪ লোকসভা ভোটের নিরিখে ও প্রার্থীপদ ঘোষণার পর স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখার পর তৃণমূলের যে দশ হেভিওয়েট প্রার্থীর হারের আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আসন থেকে বড় লিড ছিল বিজেপির। ইডি সহ নানা কেন্দ্রীয় এজেন্সি সুজিত বসুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চালচ্ছে। টানা তিনবারের বিধাননগের বিধায়ক এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায় প্রচারে নজর কাড়ছেন। বিষয়টি আরও চাপে রাখছে সুজিতকে। নির্বাচনী অঙ্ক সঙ্গে নেই সুজিতের। তবে গতবারও সেটা না থাকা সত্ত্বেও শ্রীভূমির সুজিত দারুণ জয় পেয়েছিলেন। এবারও তেমনটা করতে পারবেন কি?
জীবনে প্রথমবার ভোটে লড়ে পরাস্ত হয়েছিলেন। ২০২৪ লোকসভা ভোটে সাতটি বিধানসভাতেই বিজেপির অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রার্থী অভিজিত গাঙ্গুলি-র কাছে হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। এবার বিধানসভায় প্রথমবার লড়তে নেমেও একেবারে কঠিন পিচে দেবাংশু।
২০২৪ লোকসভা ভোটে চুঁচুড়া থেকে লিড নিয়েছিলেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। পিছিয়ে থাকা আসন বলে শুধু দেবাংশুকে পড়তে হচ্ছে তাঁর দলের এখানকার তিনবারের বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের প্রবল বিরোধিতা। অসিতকে টিকিট না দিয়ে চুচুঁড়ুয়ায় দেবাংশুকে পাঠিয়ে দিদি ভুল করলেন কি না তা জানা যাবে ৪ মে।
Jyotipriya Mallick: দুর্নীতি কাণ্ডে জেল খাটার পর থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী বেশ ম্রিয়মান। আগের সেই দাপটটা উধাও। দলেও সেই আগের মত গুরুত্বটা ফিরে পাননি। এবার বালুর রাজনৈতিক কেরিয়ারে অন্যতম কঠিন ভোট। ২০২৪ লোকসভা ভোটের নিরিখে হাবড়া থেকে তৃণমূল বেশ খানিকটা টেক্কা দিয়ে লিড পায় বিজেপি। এবার বালুর প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির দেবেশ মণ্ডল বেশ গুছিয়ে নেমেছেন। গতবার চার হাজারেরও কম ভোটে জেতা জ্যোতিপ্রিয়র পক্ষে এবার জেতা কঠিন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।
একটা সময় তিনি ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ। কিন্তু দলীয় অন্তর্কলহে জড়িয়ে সেই বালুরঘাটেই ২০১৯ লোকসভায় হেরে রাজনীতির আঙীনা থেকে ক্রমশ তলিয়ে যেতে থাকেন তৃণমূলপন্থী ‘বুদ্ধিজীবী’অর্পিতা ঘোষ। তবে এবার তাঁকে রাজনীতিতে গুরুত্ব ফিরে পাওয়ার মঞ্চ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বালুরঘাট থেকে তৃণমূল দাঁড় করিয়েছে দলের প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ-কে। তবে তাঁর লড়াই বেশ কঠিন। সুকান্ত মজুমদারের গড়ে এই বিধানসভা আসনে দুবছর আগে হওয়া লোকসভা ভোটে ভাল লিড আছে বিজেপির। এবার অর্পিতার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী বিদ্যুৎকুমার রায়ের প্রচারে বেশ ভিড় হচ্ছে। সব দেখে মনে হচ্ছে অর্পিতার বিরুদ্ধে এখানে নি:শব্দ ‘বিপ্লব’ঘটে যেতে পারে। নিন্দুকে বলে একেই বালুরঘাটে অর্পিতার 'মিত্র'-র অভাব নেই।
বিজেপির শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী- শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের লড়াইটাকে মিশন ইমপসিবল বলে মনে করা হচ্ছে। এক সময়ের বামগড় শিলিগুড়ি এখন বিজেপির মজবুত দুর্গ। গত বিধানসভায় শঙ্করের জয়ের পর ২০২৪ লোকসভায় শিলিগুড়িতে বড় লিড ছিল বিজেপির। গতবারের মত এবারও বিধায়ক হওয়া নাও হতে পারে গৌতমের।
বছর দুয়েক আগে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা-মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিধানসভা আসন কৃষ্ণনগর দক্ষিণে পিছিয়ে পড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। এই আসনে গত তিনবার বেশ ভাল ব্যবদানেই জিতেছিলেন তৃণমূলের ঠোঁটকাটা নেতা-মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বা। কিন্তু এবার হাওয়া ঘুরছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া টের পাচ্ছেন উজ্জ্বল। রাজনৈতিক মহলের মত এবার এই আসনে বাজিমাত করতে পারেন বিজেপির স্বাধীন ঘোষ।
Akhil Giri, Ramnagar
শিশির অধিকারীর গড়ের এই আসন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে তৃণমূলের তিনবারের বিধায়ক অখিল গিরি-র। অখিলের বিরুদ্ধে এবার প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে। ২০২৪ লোকসভা ভোটেও এই আসনে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। রামনগর আসনে বিজেপির চন্দ্রশেখর মণ্ডল প্রচারে ঝড় তুলছেন।
Shib Shankar Paul, Tufanganj
ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতিতে নেমে ভোটের আঙিনায় হোঁচট খেতে পারেন তুষাণগঞ্জে তৃণমূলের পেসার প্রার্থী শিবশঙ্কর পাল। লোকসভা ভোটে এই আসনে লিড ছিল বিজেপির। সঙ্গে আবার শিবশঙ্কর প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় তৃণমূলে একটা অংশে ক্ষোভ রয়েছে। সব মিলিয়ে শিবশঙ্করকে সফলতার ভোটের উইকেট তুললে অবিশ্বাস্য ইয়র্কার দিতে হবে। তুষাণগঞ্জের পিচে যেটা বেশ কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
Shashi Panja, Shyampukur
তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী শশী পাঁজার আসন শ্যামপুকুরে ২০২৪ লোকসভায় লিড পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। গত কয়েক মাসে শ্যামপুকুরে সংগঠন মজবুত করতে পেরেছে বিজেপি। তাপস রায় নিজে হাতে এখানকার সংগঠনের গুটি সাজিয়েছেন। তাই বিজেপির অঙ্কের হিসাবে মিলে গেলে এবার শ্যামপুকুরে ইন্দ্রপতন হতে পারে।
Madhuparna Deb, Bagda
উপনির্বাচনে জিতে মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিধায়ক হয়ে চমকে দিয়েছিলেন তৃণমূলের মধুপর্ণা দেব। ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়ির বড়মা-র নাতনী মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা এবারও বাগদায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁর লড়াই বেশ কঠিন। কারণ মধুপর্ণার প্রতিপক্ষ তাঁর কাকিমা বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। লোকসভা ভোটে এই বাগদায় বড় লিড ছিল বিজেপির শান্তনু ঠাকুরের। সেই হিসাবে মধুপর্ণা-র ফের বিধায়ক হওয়া বেশ কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।