মালদায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ধর্ম নিয়ে বিভেদ তৈরি করছে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আগামী দিনে শান্তিতে থাকতে হলে বিজেপিকে রুখতে সবাইকে একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে মানুষকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ধর্মকে অপমান করছে, অশান্তি তৈরি করছে এবং মালদার স্থানীয়দের নিশানা করছে। রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন দুটি দফায়, ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ঠা মে।
মানিকচক থেকে বিজেপিকে নিশানা
মানিকচকের এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আপনারা যদি আগামী ৫ বছর শান্তিতে থাকতে চান, তাহলে বিজেপিকে আটকাতে একজোট হতেই হবে। বিজেপি দেশটাকে শেষ করে দেবে। ওরা কোনও ধর্মকেই সম্মান করে না। ওরা নিজেদের তৈরি করা একটা ধর্ম চাপিয়ে দেয়। মা কালীর প্রসাদে মাছ-মাংস দুইই থাকে। বিজেপি কোন ধর্ম শেখাতে চাইছে? ওদের আগে বাংলার সংস্কৃতিটা বোঝা দরকার।"
তিনি আরও বলেন, "কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। ওরা ঝামেলা বাধিয়ে প্রত্যেক এলাকা থেকে ৩০-৪০ জনকে গ্রেপ্তার করাতে চায়। মালদায় এটাই হচ্ছে। নিরীহ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এনআইএ, সিবিআই, ইডি, বিএসএফ আর সিআইএসএফ সবই মোটা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে। মোটা ভাই আমাদের চোর বলে। কিন্তু সীমান্তের টাকা কোথায় যায়? বাংলায় কথা বললেই আপনারা অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে দেন। আপনারাই [বিজেপি] সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। ভোটের সময় জোর করে ভোট দখল করতে এখানে আসে।"
বিজেপি এলে কী কী হবে বললেন মমতা
মমতা ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও দলকে যেন ভোট না দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে গোপন আঁতাত রয়েছে। তিনি বলেন, এই জোট ক্ষমতায় এলে এনআরসি (NRC) চালু হবে এবং ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হবে। তবে তাঁর সরকার কোনও নাগরিককে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মালদায় লোকসভায় বিজেপি আর কংগ্রেসের একটা করে আসন আছে। বাংলায় কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যে বোঝাপড়া আছে। অন্য কোনও দলকে একটাও ভোট দেবেন না। নাহলে এনআরসি হবে। তারপর ডিটেনশন ক্যাম্প হবে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার একজনকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেবে না।"
গরীব মানুষ কী খাবে, প্রশ্ন মমতার
মমতা আরও বলেন, "ওরা বলছে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে গরিব মানুষ কী খাবে, মোটা ভাই? বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলায় কথা বলার জন্য পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। পরশুদিন রাজস্থানে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট দিতে বাংলায় ফিরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ওদের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশে ওদের বাস থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আপনাদের ফিরতেই হবে। কাউকে নিজের অধিকার কেড়ে নিতে দেবেন না।"
মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, অফিসারদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এবং ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের চাপ দিয়ে ‘বাংলাকে বিক্রি’ করতে চাইছে।
"মোটা ভাই বাংলাকে বিক্রি করতে চায়। বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়। প্রশাসনিক অফিসারদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়। অত্যাচার করতে চায়। যারা দাঙ্গা বাধিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা মানুষের কষ্ট কোনওদিন বুঝবে না। আমাদের গণতান্ত্রিকভাবে এর বদলা নিতে হবে। ওরা শুধু মিথ্যে কথা বলে। মানুষের জীবন ছাড়া সবকিছুর দাম বেড়েছে," বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, "ওরা ফোন করে ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখায়। কখনও আবার টোপ দেয়। আমাদের প্রার্থীদের ইডি ডেকে পাঠাচ্ছে আর বলছে যে ওরা [বিজেপি] যদি যথেষ্ট আসন না পায়, তাহলে এই প্রার্থীরা জিতলে ওদের [বিজেপিকে] সমর্থন করতে হবে। কিন্তু এই মতলব কোনওদিন সফল হবে না।"


