
ভোটপর্ব ও শপথ গ্রহণ শেষে এবার ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যবাসীর উন্নতিতে ব্রতী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি যান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখানে ফুলমালায় তাঁকে স্থানীয়রা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে একই গাড়িতে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে পৌঁছান নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সেখান থেকে নবান্নে। সোমে নবান্নে ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নবান্নে হওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রশাসনিক দিশা, সুশাসন, সীমান্ত সুরক্ষা, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন যে, ‘’পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের পথ অনুসরণ করেই এগোবে।'' এছাড়াও তিনি সংবিধান প্রণেতা ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের “For the People, By the People, Of the People” আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে “ভয়মুক্ত, রক্তপাতহীন এবং অবাধ নির্বাচন” সম্পন্ন হওয়ার জন্য রাজ্যের ভোটার, প্রশাসন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান বাংলার নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারতীয় জনতা পার্টির ৩২১ জন শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁদের পরিবারের পাশে সরকার সর্বতোভাবে থাকবে এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টাকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বীমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা শাসকদের দ্রুত সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারি চাকরির আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘’পূর্ববর্তী সরকার জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১৬ জুন, ২০২৫-এর নির্দেশ দীর্ঘদিন কার্যকর করেনি। বর্তমান সরকার অবিলম্বে সেই প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকর করেছে।''
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার আমিত্বে চলে না, নীতিতে চলে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “ভয় আউট, ভরসা ইন” বার্তার উল্লেখ করে বলেন, নতুন সরকার মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।''
চালু থাকা সামাজিক কল্যাণকর কর্মসূচি এই সরকার বন্ধ করবে না। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেটি চলবে। কোনও মৃত ব্যক্তি, কোনও অভারতীয়, অবৈধ ব্যক্তিরা সুযোগ পাবেন না বলেও জানান তিনি।
বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি দেওয়া হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেছিল।