- Home
- West Bengal
- Annapurna Bhandar: বদলে যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম? কমছে পাতার সংখ্যা? নবান্নের নয়া আপডেট
Annapurna Bhandar: বদলে যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম? কমছে পাতার সংখ্যা? নবান্নের নয়া আপডেট
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম (Annapurna Bhandar) প্রকাশ করার পর যেন বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। কেন ১৩ পাতার ফর্ম রাখা হল? কেন পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে? নতুন জল্পনা— ফর্মে কি বড়সড় পরিবর্তন আনা হতে চলেছে?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত ১৩ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম (Annapurna Bhandar) প্রকাশ করার পর যেন বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। কেন ১৩ পাতার ফর্ম রাখা হল? কেন পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে?
বিশেষ করে আবেদনকারীদের দাবি, ফর্মে অত্যধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেই তথ্য সংগ্রহ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই উঠে এসেছে নতুন জল্পনা—অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে কি বড়সড় পরিবর্তন আনা হতে চলেছে?
মহিলারা এই ফর্ম ফিলাপ করতে সমস্যায় পড়ছে। অনেকেই টাকা পাবেন না। এমনই সব দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পাড়ার অলিগলিতে। এমনকি নতুন সরকারকেই সকলে কাঠগড়ায় তুলছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ফর্ম সংক্রান্ত একাধিক মতামত ও প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ করতে সময় বেশি লাগছে এবং কিছু অংশ অত্যন্ত জটিল।
বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতায় পরিবারের সদস্যদের আয়, সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এই কারণেই অনেক আবেদনকারী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে ফর্মের কিছু অংশ সংশোধনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে কয়েকটি পাতাকে একত্রিত করা বা অপ্রয়োজনীয় তথ্যের অংশ বাদ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে কী বললেন মন্ত্রী?
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এই ফর্ম নিয়ে আমরা অনেক জায়গা থেকে অভিযোগ পাচ্ছি যে ফিলাপ করতে অসুবিধা হচ্ছে। আসলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। হয়তো ১১ বা ১২ পাতা দেখে অনেকের মনে ভয় জন্মাচ্ছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি, যদি সেটা কিছুটা সহজ করা যায়। তবে আসলে ১১ বা ১২ পাতা ইনফরমেশন দিলেই যে আপনি অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার পাবেন এমনটা নয়। কারণ, আগামী দিনে অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে বাস্তবায়িত হবে। তাই আমরা আগে থেকেই ডেটা নিয়ে রাখছি, যাতে পরে অসুবিধা না হয়। এই ডেটার উপর ভিত্তি করে আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন কি না পাবেন সেটা ফ্যাক্ট নয়।”
মন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আমি আগেই বলেছি যে যারা ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবে না। এমনকি যাদের একাধিক জায়গায় ভোটার রয়েছে, বা বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছিলেন তারা পাবেন না। পাশাপাশি যারা আয়কর দেন তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার কথাই নয়। এছাড়া যারা সন্তানদেরকে সরকার অনুমোদিত স্কুলে পড়াননি তারাও পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। আমরা চাই আসল মানুষদেরকে এই প্রকল্পের টাকা দিতে।”
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যে কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, তত বেশি মানুষ প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। তাই ফর্ম সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের সুবিধাই হবে। তবে একইসঙ্গে সরকারের পক্ষেও প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।
এদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং ফর্ম পূরণের কাজ শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফর্মে কোনও পরিবর্তন এলে তা নিয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

