
শপথগ্রহণের দিনেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ। আর সেই লক্ষ্যে সোমবার নবান্নে পা রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজই তাঁর প্রথম কর্মদিসব। আজই দিনভর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তবে আজ তাঁর দিন শুরু হবে বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক দিয়ে।
দিনের শুরুতেই শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে কী কী আলোচনা হবে তা বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে রাজ্যের মন্ত্রীদের দফতর নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। এখনও সব মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি। শুভেন্দুর সঙ্গে শনিবার শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামানিক। বাকি মন্ত্রীদের নাম আজ শমীক-শুভেন্দুর বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে রাজ্য পুলিশ। নবান্ন সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে সোমবার দুপুর ১২টার সময়। ৫জন মন্ত্রী নিয়েই প্রথম বৈঠক করতে পারেন শুভেন্দু। শপথের পরে শনিবারই একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ওই দিন ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে একপ্রস্ত প্রশাসনিক বৈঠক সারেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খোঁজখবর নেন ওই বৈঠকে। শনিবার রাতে কাঁথিতে নিজের বাড়িতে যান শুভেন্দু। রবিবার সেখানেই ছিলেন। রবিবার বিকেল ৫টায় কাঁথি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। রাতেই কলকাতায় ফিরে আসেন। তবে রাস্তাতেই উৎসাহী জনতার জন্য একাধিকবার থামতে শুভেন্দুর কনভয়কে। স্থানীয় মানুষজন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রীও তা গ্রহণ করেন।
সোমবার নবান্নে পরপর তিনটি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম বৈঠক রাজ্যের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। তারপর জেলা শাসকদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন। তৃতীয় বৈঠক হবে বিকেলে, রাজ্যের পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
সোমবার, আজ নবান্নেই বিজেপির জয়ী ২০৬ জন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর প্রত্যেক বিধায়ককে এলাকার উন্নয়ন আর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা তিনি দেবেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ভেঙে পড়েছে বলে বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ই একাধিকবার বলেছিলেন। আর সেই কারণেই নিজে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে সেই বিষয়ে প্রথম কড়া পদক্ষেপ নিতে পারেন বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।