১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নিয়ে বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ বিজেপি সরকারের
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ও মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনের ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিশনের রিপোর্টের একাধিক চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ হাউসের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে, সেদিনের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কথাও ঘোষণা করেন।
27
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
পুলিশের ভূমিকা ও নথিপত্র লোপাট নিয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র রাজনৈতিক দফতরের বিজ্ঞপ্তি এবং তদন্ত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিশন মোট ৪৪ জনকে ডেকেছিল। যার মধ্যে ছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, তৎকালীন হোম সেক্রেটারি মণীশ গুপ্ত এবং তৎকালীন পুলিশ কমিশনার তুষার কান্তি তালুকদার। অথচ, যিনি নিজেকে অন্যতম প্রধান সাক্ষী হিসেবে দাবি করেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমিশন ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি।
37
কমিশনের মূল পর্যবেক্ষণগুলি
কমিশনের মূল পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরে তিনি বলেন:- ‘’সেদিনের ঘটনার পর আইন অনুযায়ী কোনো যথাযথ নির্বাহী তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশন মনে করে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সরল বিশ্বাসে করা হয়নি। তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট এবং বাকি আধিকারিকদের বিবৃতির মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য ছিল। কমিশনার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন।''
রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বহু দূরে, মেট্রো সিনেমার সামনে যে গুলি চালানো হয়েছিল, তার সবকটিই ছিল ,অপ্রয়োজনীয়, উস্কানিবিহীন এবং অযৌক্তিক। "তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেন তথ্য আড়াল করতে চাইলেন? কারণ তাঁর পাওয়ার মিনিস্টার ফেসে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।" — বিধানসভায় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।
57
নথিপত্র সংরক্ষণ ও বাম আমলের উদাসীনতা
কমিশনের সুপারিশের অংশটি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাইটার্স বিল্ডিং ও লালবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে কীভাবে নথিপত্র হারিয়ে গেল, তা নিয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে যারা আজ বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, নথিপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অতীতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক ও উদাসীন ছিল বলে তিনি তোপ দাগেন।
67
ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় ঘোষণা
বাম সরকারের আমলে নিহত ও আহতদের যে সামান্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল, তার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেন। কমিশন নিহত ১২ জনের পরিবারকে ,২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, কিন্তু তৎকালীন সরকার নিহতদের মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫,০০০ টাকা দিয়েছিল।
77
ক্ষতিপূরণ দেবে শুভেন্দু অধিকারী সরকার
আন্দোলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ব্যবহার করে অনেকে এমপি, এমএলএ, মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। হেলিকপ্টারে ঘুরেছেন, দুবাই-সিঙ্গাপুর- আমেরিকায় চিকিৎসা করিয়েছেন। আপনারা যদি বর্তমান সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে চান, সেই সুযোগ দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সেই ক্ষতিপূরণ দেবো।"