Indian Railway New Rules: প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার কম্বল, চাদর, বালিশের কভার ট্রেন থেকে চুরি হয়। এবার সেই ফুটো বন্ধ করতে প্রযুক্তির সাহায্য। প্রতিটি লিনেনে বসছে ইউনিক QR Code। দিলেই স্ক্যান, ফেরত না দিলেই অ্যালার্ম। সঙ্গে হাইজিনও হবে ১০% ট্র্যাক।
Indian Railway New Rules: ছবিটা খুব চেনা। ভোর ৫টায় স্টেশনে ট্রেন ঢুকল। ঘুম ভেঙে দেখলেন আপনার সিটের কম্বলটা নেই। জানলার ধারের ভদ্রলোক ব্যাগ গুছিয়ে নেমে যাচ্ছেন। ব্যাগটা একটু ফোলা ফোলা।
এই "একটা কম্বল কী আর এমন" মানসিকতার জন্যই ভারতীয় রেলের প্রতি বছর লোকসান প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি। কম্বল, চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে — এসি কোচের লিনেন যাত্রীদের হাত ধরেই "গায়েব" হয়ে যায়। বারবার নোটিস, ফাইন, RPF-এর ধরপাকড়েও লাভ হয়নি। তাই এবার রেল ধরেছে টেকনোলজির রাস্তা।
রেলের বড় প্ল্যানটা ঠিক কী?
Indian Railways এবার তাদের সমস্ত এসি কোচের লিনেনে বসাতে চলেছে ইউনিক QR Code। হ্যাঁ, আপনার গায়ে দেওয়া কম্বলটারও একটা আলাদা পরিচয়পত্র থাকবে। প্রতিটি চাদর, কম্বল, বালিশের কভারে থাকবে আলাদা সিরিয়াল নম্বর সহ QR Code।
প্রসেসটা হবে একদম কুরিয়ারের মতো। ট্রেন ছাড়ার আগে অ্যাটেন্ডেন্ট একটি বিশেষ অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে আপনার সিট নম্বরের সাথে লিনেনটি লিঙ্ক করে দেবেন। আপনি সই করে বুঝে নেবেন। আবার গন্তব্যে পৌঁছানোর আধ ঘণ্টা আগে অ্যাটেন্ডেন্ট এসে স্ক্যান করে ফেরত নেবেন।
ব্যাগে পুরলেই সর্বনাশ কেন?
এখানেই আসল চমক। বড় বড় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের এক্সিট গেটে বসানো হবে হাই-পাওয়ার QR স্ক্যানার। কেউ যদি লিনেন ব্যাগে করে নিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করে, গেটের স্ক্যানার মুহূর্তে সেটা ডিটেক্ট করে ফেলবে। সঙ্গে জোরে অ্যালার্ম বাজবে এবং RPF-এর কাছে অটোমেটিক নোটিফিকেশন চলে যাবে। ধরা পড়লে ফাইন তো হবেই, সাথে আইনি ব্যবস্থাও।
শুধু চুরি রোখা নয়, সুবিধাও অনেক
রেলের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, "আমাদের উদ্দেশ্য শুধু চুরি বন্ধ করা নয়।" QR Code স্ক্যান করলেই জানা যাবে এই কম্বলটি কোন ট্রেনের, কোন ডিপোর, কত তারিখে শেষবার কাচা হয়েছে, কতবার ব্যবহার হয়েছে এবং কবে এক্সপায়ার হবে। ফলে "নোংরা কম্বল দিয়েছে" — এই অভিযোগও থাকবে না। প্রতিটি লিনেনের হাইজিন ১০০% ট্র্যাক করা যাবে।
যাত্রীদের সরাসরি ৩টি লাভ
প্রথমত, আপনি সবসময় পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত এবং ট্র্যাক করা লিনেন পাবেন। দ্বিতীয়ত, চুরি কমলে রেলের পরিচালন খরচ কমবে। তার প্রভাব গিয়ে পড়বে না ভাড়ার উপর। তৃতীয়ত, লিনেন হারিয়ে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে দায় কার সেটা নিয়েও আর ঝামেলা হবে না। সব ডেটা অ্যাপে সেভ থাকবে।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে?
আগামী মে ২০২৬ থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে দিল্লি-মুম্বাই রাজধানী, শতাব্দী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসে এই সিস্টেম চালু হচ্ছে। প্রথম ৩ মাস রেজাল্ট দেখে তারপর ধাপে ধাপে রাজধানী, দুরন্ত এবং তারপর সমস্ত মেল-এক্সপ্রেস ট্রেনে নিয়ে আসা হবে।
প্রযুক্তি দিয়ে অভ্যাস বদলানো কঠিন। কিন্তু কোটি টাকার সম্পত্তি বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ জরুরি ছিল। QR Code শুধু কম্বল বাঁচাবে না, রেলের প্রতি আমাদের বিশ্বাসটাও ফেরাবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

