BJP News: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার লক্ষ্য কলকাতা পুরসভা! কলকাতা কর্পোরেশন ভোটের দায়িত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, হাওড়া পুরভোট সামলাতে কমিটির মাথায় রাহুল সিনহা। পুরভোট প্রস্তুতি শুরু বিজেপির।
রাজ্যে পালা বদলের পর এবার বিজেপির লক্ষ্য কলকাতা পুরসভা বা ছোট লালবাড়ি। কলকাতা কর্পোরেশনের ভোট প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তেমনই বলছে একাধিক সূত্র। কলকাতা পুরভোট সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। পিছিয়ে নেই হাওড়া পুরসভার ভোট প্রস্তুতিও। রাহুল সিনহাকে মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে কমিটি।
কলকাতা পুরভোট পরিচালন কমিটি
বিজেপি সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার ভোট পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। কমিটির ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। কো-ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কমিটির আহ্বায়ক মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। সহ-আহ্বায়ক কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।
বিজেপির নজর হাওড়াতেও
তবে শুধু কলকাতাই নয়। বিজেপি নজর দিচ্ছে হাওড়া পুরসভার ভোটেও। হাওড়া পুরসভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তৈরি করা হয়েছে মঙ্গলবারই। সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভাপতি রাহুল সিনহার হাতে। আহ্বায়ক বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিনহা।
হাওড়া ও কলকাতা পুরসভার বর্তমান অবস্থা
গত ৮ বছর ধরে হাওড়ায় পুরোবোর্ড নেই। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে গেছে কলকাতার পুরোবোর্ড। পালাবদলের পরেই ইস্তফা দিয়েছেন ময়ের ফিরহাদ হাকিম। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, কলকাতা পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেও নতুন মেয়রের নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ ততক্ষণে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গেছে। আর সেই কারণেই কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বর্তমানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিজেপি সূত্রের খবর পুজো পরে নভেম্বর বা ডিসেম্বর নাগাদ হাওড়া আর কলকাতায় পুরভোট হতে পারে। আর সেই কারণেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
কেন দায়িত্বে সুকান্ত মজুমদার?
কেন কলকাতা পুরভোটের দায়িত্ব সুকান্ত মজুমদারের হাতে তুলে দেওয়া হল, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে চর্চা। দলীয় সূত্রের ব্যাখ্যা, এর পিছনে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে।
- প্রথমত, কলকাতা পুরসভা দখলের লড়াইকে বিজেপি যে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সুকান্তের মতো অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেই তার ইঙ্গিত মিলছে। অর্থাৎ, আসন্ন পুরভোটকে কেন্দ্র করে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
- দ্বিতীয়ত, রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক পরিসরে সুকান্ত মজুমদারের ভূমিকা ফের গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেও মনে করছে দলের একাংশ। রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্য সেই দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও দলের নীতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে সুকান্তকে রাখা হয়েছিল।
- এমনকি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নাম বাদ গেলেও সুকান্তকে সেই পরিসরে রাখা হয়েছিল। ফলে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে বালুরঘাটের সাংসদকে এখনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক মুখ হিসেবে দেখছে, সেই বার্তাই মিলেছিল।
- এ বার কলকাতা পুরসভা দখলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়ায় সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠনকে মজবুত করার পাশাপাশি সুকান্তের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
ফলে পুরভোটের দায়িত্ব পাওয়া শুধু একটি নির্বাচনী দায়িত্ব নয়, রাজ্য বিজেপিতে সুকান্ত মজুমদারের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভূমিকারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন দলের একাংশ।


