রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আসল তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কার— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত তৃণমূলের নতুন গোষ্ঠী। দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে এই বিতর্ক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে আদালতেও গেছে বিষয়টি।
210
শিবসেনা মামলার পর্যবেক্ষণেই তৃণমূল নিয়ে জল্পনা
বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের শিবসেনার পুরনো বিভাজন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের একটি পর্যবেক্ষণের পরেই তৃণমূলের অন্দরের এই বিবাদ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। আলোচনার মূল বিষয় হল এই সমস্যা মিটতে ঠিক কত দিন লাগবে?
310
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা
সুপ্রিম কোর্ট তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, বরং দলত্যাগের আইনি বিচার বা প্রতীকের লড়াইয়ে মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যবেক্ষণ তৃণমূলের ‘আসল-নকল’ বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, অতীতে একাধিক মামলায় শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছে। ফলে তৃণমূলের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতেই থাকার সম্ভাবনা বেশি।
510
তৃণমূলের ক্ষেত্রে এখনও নিষ্ক্রিয় কমিশন
লক্ষণীয় বিষয় হল, শিবসেনার মতো তৃণমূলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত নাম বা প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার মতো কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে দুই শিবিরই এখনও তৃণমূল নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চলেছে।
610
মমতার চিঠি, দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। কমিশন এখনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করায় আগামী দিনে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
710
উপনির্বাচনেই আসল পরীক্ষা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের একাধিক আসনে উপনির্বাচন বাকি রয়েছে। এই সব আসনে নির্বাচন ঘোষিত হলে তৃণমূলের কোন শিবির দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে, সেই প্রশ্নই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
810
শিবসেনার নজির মনে করাচ্ছে বিপদের ইঙ্গিত
শিবসেনার ক্ষেত্রে নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকার সময় উদ্ধব গোষ্ঠীকে একটি উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী দিতে হয়েছিল। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
910
কীসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন?
নির্বাচন কমিশনের ১৯৬৮ সালের প্রতীক সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, দলে বিবাদ দেখা দিলে কমিশন বিধায়ক, সাংসদ, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং দলের পদাধিকারীদের মধ্যে কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে অর্ধেকের বেশি রয়েছেন, তার ভিত্তিতে দলীয় নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও এই একই মাপকাঠি প্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা।
1010
সময়সীমা অনির্দিষ্ট, দীর্ঘ টানাপোড়েনের আশঙ্কা
এই ধরনের বিবাদ মীমাংসার জন্য কমিশনের কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। ফলে তৃণমূলের এই ‘আসল-নকল’ বিতর্কের নিষ্পত্তিও দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।