
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিদ্রোহী সাংসদরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে মিশে যাওয়ার দাবি করার পরেই এই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। বৃহস্পতিবার তিনি এই দলবদলকে "দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর চেষ্টা" বলে তীব্র আক্রমণ করেন। ANI-কে সৌগতবাবু বলেন, বিদ্রোহীরা দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর জন্য একটি অপরিচিত দলের সঙ্গে "মিশে যাওয়ার চেষ্টা" করছে।
সৌগত রায়ের কথায়, "এটা দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর একটা ফন্দি। কারণ আইন অনুযায়ী, একমাত্র দুটি দল মিশে গেলেই এই আইন কার্যকর হয় না। তাই ওরা একটা অচেনা দলের সঙ্গে মিশে গিয়ে আইনকে ফাঁকি দিতে চাইছে। কারণ দলত্যাগ বিরোধী আইনে দল ভাঙার কোনও সুযোগ নেই।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করছেন কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে সৌগত রায় বলেন, লোকসভার স্পিকারই অভিষেককে বৈঠকের জন্য ডেকেছেন। তিনি ANI-কে বলেন, "আজ স্পিকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৈঠকের জন্য ডেকেছেন। অভিষেক লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা। যারা দল ছেড়েছে, তারা যে দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে, সেই বিষয়ে অভিষেকের লেখা আগের চিঠির ভিত্তিতেই এই বৈঠক। আমি এবং মহুয়া মৈত্রের মতো অন্য সাংসদরা আজ বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করব। যারা দল ছেড়েছে, তাদের সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য আমাদের যুক্তিগুলো আমরা স্পিকারের সামনে তুলে ধরব।"
তৃণমূল কংগ্রেসে যখন বিদ্রোহ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই সৌগত রায়ের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের ৫৮ জন বিধায়ক একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন এবং স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ত্রিপুরার দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা বসার ব্যবস্থার জন্য চিঠিও দিয়েছেন।
ত্রিপুরার দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া এই ঘটনার পরেই জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। দলটির সাংগঠনিক শক্তি সীমিত হলেও, দলের জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তনু দে এই হেভিওয়েট নেতাদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
এর আগে বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বাংলায় 'অপারেশন লোটাস' এবং মহারাষ্ট্রে 'অপারেশন টাইগার' নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) আক্রমণ করেন। আজাদ অভিযোগ করেন, তৃণমূলের বিদ্রোহীদের দলে টেনেও লোকসভায় এনডিএ (NDA) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও দূরে। এক্স-এ একটি পোস্টে তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, "২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ছিল 'অব কি বার ৪০০ পার', কিন্তু তারা কোনও সময়সীমা দেয়নি। তারা এখন সেই স্লোগান পূরণ করছে। নিচে অপারেশন লোটাস এবং টাইগারের উদাহরণ দেওয়া হল, আরও অনেক কিছু আসছে। তৃণমূলের বিদ্রোহীদের দলে নিয়েও এনডিএ লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও দূরে! মানুষ ২০২৪ সালে তাদের রায় দিয়েছে। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন হর্স-ট্রেডিং এবং গণ দলবদলের মাধ্যমে সেই রায়কে নতুন করে লেখা হচ্ছে।"
পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, "সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য (Delimitation Bill ইত্যাদি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা প্রায় ৩৬০। অন্য দল থেকে আরও দলবদলের জল্পনা সত্ত্বেও, লোকসভা সহজে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এদিকে, এনডিএ রাজ্যসভায় একই পেছনের দরজা দিয়ে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি চলে আসছে। এটা জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করার জন্য একটি পরিকল্পিত পাটিগণিত।"