
কেন্দ্রের 'ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা' (ভাব্য)-র দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রবিবার রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানান, অগাস্ট মাসের মধ্যেই এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, "আমরা অগাস্টের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের 'ভাব্য' প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই বিষয়ে ২৪ জুলাই কেন্দ্রকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। আমাদের দপ্তর এখন একটা স্টার্টআপ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের মতো হয়ে গিয়েছে, কারণ সবকিছুই একেবারে গোড়া থেকে শুরু করতে হচ্ছে।"
প্রসঙ্গত, ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা 'ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা রসায়ন' (ভাব্য রসায়ন) নামের এই প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেয়। এর জন্য মোট ৩,০৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশে তিনটি কেমিক্যাল পার্ক তৈরি করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং রাসায়নিক শিল্পে ভারতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য মোট ৩,০৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,০০০ কোটি টাকা পার্কের পরিকাঠামো তৈরির জন্য এবং বাকি ৩০ কোটি টাকা প্রশাসনিক খরচের জন্য রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি পাঁচ বছর ধরে, অর্থাৎ অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্র প্রতিটি কেমিক্যাল পার্কের জন্য সর্বাধিক ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে। তবে শর্ত হল, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
এই তিনটি কেমিক্যাল পার্ক রাজ্য সরকারগুলি তৈরি করবে। একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা রাজ্যগুলিকে বেছে নেওয়া হবে। প্রতিটি পার্কের জন্য কমপক্ষে ৮ বর্গ কিলোমিটার (২,০০০ একর) জমি থাকতে হবে। এই পার্কগুলিতে 'প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে' মডেলের শিল্প পরিকাঠামো থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP), ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফেসিলিটি (TSDF), জল সরবরাহ ব্যবস্থা, সলভেন্ট রিকভারি ইউনিট, স্টিম জেনারেশন নেটওয়ার্ক, পাইপলাইন এবং লজিস্টিক ও গুদামের সুবিধা। (ANI)