- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বেআইনি বিলবোর্ডের পরে এবার দখলদারির অভিযোগ! ক্যামাকস্ট্রিটে অভিষেদের অফিস নিয়ে নতুন বিতর্ক
বেআইনি বিলবোর্ডের পরে এবার দখলদারির অভিযোগ! ক্যামাকস্ট্রিটে অভিষেদের অফিস নিয়ে নতুন বিতর্ক
Camac Street: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ঘিরে ফের বিতর্ক। বেআইনি বিলবোর্ডের পর এবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখার অভিযোগ বাড়ির মালিকপক্ষের।

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ
ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। বেআইনি বিলবোর্ড নিয়ে তুমুল অশান্তির পর এবার সামনে এল আরও গুরুতর অভিযোগ। বাড়ির মালিকপক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের ভাড়ার চুক্তি ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই নতুন বিতর্ক।

২০২০ সালের চুক্তিতে কী ছিল?
জানা গিয়েছে, কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়িটি ২০২০ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বাড়ির মালিক রমা গোয়েঙ্কার সঙ্গে হওয়া সেই চুক্তিতে একাধিক শর্ত ছিল। মালিকপক্ষের অভিযোগ, পরবর্তীকালে সেই শর্তগুলি যথাযথভাবে মানা হয়নি। তা থেকেই তৈরি হয়েছে বর্তমান জটিলতা।
দু’টি ফ্লোর দখলের অভিযোগ কেন?
বাড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ, চুক্তির শর্ত মেনে চলার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, জায়গা খালি করার বিষয়ে বারবার বলা হলেও কোনও ফল হয়নি। এই পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকেই দায়ী করছে মালিকপক্ষ। যদিও অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের বক্তব্য জানা যায়নি।
মালিককে না জানিয়েই বিলবোর্ড?
শুধু ফ্লোর দখলের অভিযোগই নয়, বিলবোর্ড নিয়েও রয়েছে বিস্ফোরক দাবি। মালিকপক্ষের অভিযোগ, বিল্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় সিসি বা Completion Certificate-এর জন্য বারবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। এরপর বাড়ির মালিককে না জানিয়েই বিল্ডিংয়ে বিলবোর্ড লাগানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাই পরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে।
ভাড়ার চুক্তিতে কার সই?
এই বাড়ি ভাড়ার চুক্তিতে সই করেছিলেন বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির মালিক রমা গোয়েঙ্কার সঙ্গে তাঁর মাধ্যমেই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মালিকপক্ষ আইনি নোটিসও পাঠিয়েছে বলে খবর। ফলে বিষয়টি এবার আইনি জটিলতার দিকেও গড়াচ্ছে।
বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে ধুন্ধুমার
গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে থাকা বিলবোর্ড খুলতে যায় কলকাতা পুরসভা। পুরসভার দাবি ছিল, সেটি বেআইনি। কিন্তু বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এমনকি পুলিশকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার ১৪
ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতারি পর্বও অব্যাহত। শুক্রবার সন্ধ্যায় তৌফিক নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের দুষ্কৃতীদমন শাখা। পুলিশের অভিযোগ, অশান্তিতে তাঁর ভূমিকা ছিল। এই গ্রেফতারের পর ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪।
হোর্ডিং বিতর্কের পর এবার দখলদারির অভিযোগ
শেষ পর্যন্ত বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে তৃণমূলের হোর্ডিং খুলে দেন পুরসভার কর্মীরা। কিন্তু তাঁরা এলাকা ছাড়ার পর ফের সেখানে হোর্ডিং ঝোলানো হয় বলে অভিযোগ। বিলবোর্ড নিয়ে মামলা হলেও কলকাতা হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করেনি। আর এর মধ্যেই একই অফিস ঘিরে দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখার অভিযোগ সামনে আসায় বিতর্ক আরও বাড়ল।

