দীপাবলির সন্ধ্যায় বাংলায় বিভিন্ন লক্ষ্মীপুজো হয়ে থাকে। তার আগে করা হয় অলক্ষ্মী পুজো। এই পুজো অমঙ্গল ও অশুভের প্রতীক। তাই তাকে বিদায় করে লক্ষ্মীবরণই এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। গোবর দিয়ে অলক্ষ্মীর এবং পিটুলি দিয়ে লক্ষ্মী, কুবের ও নারায়ণের মূর্তি নির্মাণ করা হয়। উঠানের এক কোণে অলক্ষ্মীর মূর্তি রেখে পূজা করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রতের বিভিন্ন নিয়ম আছে।

আরও পড়ুন- বাস্তুর নিয়ম মেনে ধনতেরসে কেনাকাটি করুন, নিজের ভাগ্য ফিরিয়ে আনুন

হিন্দুদের কাছে, দীপাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিন সব হিন্দুরা বাড়িতে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বাংলা, আসাম, ওড়িশা ও মিথিলাতে এই দিনটি কালীপূজা হিসেবে উদযাপন করা হয়। উত্তর ভারতীয় হিন্দুদের মতে দীপাবলির দিনেই শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের নির্বাসনের পর অযোধ্যা ফেরেন। নিজের পরমপ্রিয় রাজাকে ফিরে পেয়ে অযোধ্যাবাসীরা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে সাজিয়ে তোলেন তাদের রাজধানীটাকে। এই দিনটিতে পূর্বভারত বাদে সম্পূর্ণ ভারতবর্ষে লক্ষ্মী-গণেশের পুজোর নিয়ম আছে। "দীপাবলি" নামটির অর্থ "প্রদীপের সমষ্টি"। এই দিন হিন্দুরা ঘরে ঘরে ছোটো মাটির প্রদীপ জ্বালেন। এই প্রদীপ জ্বালানো অমঙ্গল বিতাড়নের প্রতীক।বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে ঘরে লক্ষ্মী আসেন বলে উত্তর ভারতীয় হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। বাংলার দীপান্বিতা কালীপূজা বিশেষ জনপ্রিয়। এই উৎসব সাড়ম্বরে আলোকসজ্জা সহকারে পালিত হয়। 

আরও পড়ুন- কার্তিক মাসে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি, সৌভাগ্য মিলবেই আপনার জীবনে

সনাতন হিন্দু শাস্ত্র মতে, কৌশিকী অমাবস্যার এই রাতেই লক্ষ্মী দেবীর আর্বিভাব হয়। যা অত্যন্ত শুভ দিন গৃহস্থের পক্ষে। আর জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই দিন কয়েকটি জিনিস প্রতক্ষ্য করলে লক্ষীলাভ নিশ্চিত। যদি আপনি দীপাবলির রাতে এই কয়েকটি জিনিস প্রত্যক্ষ করেন তবে, জানবেন আপনার জীবনে ভালো কিছু ঘটতে চলেছে। 

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, দীপান্বিতা আমাবস্যার দিনে লক্ষ্মী প্যাঁচা দর্শণ করলে সারা বছর আর্থিক উন্নতির সুযোগ থাকে।

আরও পড়ুন- জেনে নিন এই বছরের শ্রীশ্রীশ্যামা পুজোর নির্ঘন্ট

শাস্ত্র মতে, টিকটিকির ডাক শোনা দীপাবলির দিন অত্যন্ত শুভ। এটি শুভ সময় আসার ঈঙ্গিত দেয়।

বিশেষ এই অমাবস্যার দিনে ঘরে ইঁদুর বা ছুঁচো দেখতে পাওয়াও শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়।

এইদিন আফনার ঘরের পোষ্য বা বিড়াল যদি দুধ খেয়ে নেয়, তবে তা ভাগ্য় পরিবর্তনের লক্ষণ।