হিন্দু সম্পদ্রায়ে সিদ্ধি, বিঘ্ননাশকারী, অর্থ  জ্ঞানের দেবতা রূপে পূজিত হন গণেশ। মানসিক শক্তি, পরিবারে সুখ-শান্তি, উপার্জন বৃদ্ধির দেবতা এই গনপতি। হিন্দুশাস্ত্র মতে মনে করা হয়, যিনি প্রতিদিন গণেশের স্তোত্র পাঠ করেন, তাঁর সমস্ত বাধা বিপত্তি দূর করা হয়। গণেশ শব্দটির উৎপত্তি দুটি সংস্কৃত শব্দ থেকে। 'গণ' ও 'ঈশ'এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়ে গণেশ শব্দটি। গনপতির প্রথম উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল প্রচীন হিন্দুধর্ম গ্রন্থ ঋগ্বেদে। বেদ অনুযায়ী, সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ ছাড়া কোনও ধর্মীয় সিদ্ধি সম্ভব নয়। তাই যে কোনও পুজোর আগেই গণেশ পুজো করা হয়। 

আরও পড়ুন- বৃহস্পতিবারে এই চারটি কাজ ভুলেও করবেন না

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী, রাজস্থানের যোধপুর ও নাগপুর, বিহারের বৈদ্যনাথ, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর ধূণ্ডিরাজ এমনই সারা দেশ জুড়ে এমনকি দেশের বাইরেও নেপাল সহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার নানান দেশে সিদ্ধিদাতা গণেশ মন্দিরের দেখা মেলে। অনেকেই মনে করেন বৃহস্পতিবারে কিছু নিয়ম মেনে গণেশ-এর পুজো করলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তাই এই দিনে গণেশ পুজোর জন্য উপকরণ হিসেবে রাখুন- পানপাতা, সুপুরি, ধূপ-ধুনো, ফুল, দূর্বা, মোদক, নারকেল, চন্দন কাঠ, ঠাকুরের জন্য নতুন বস্ত্র।  

আরও পড়ুন- প্রয়োজনে হোক বা প্রসাধণী হিসেবে, না ঠকে বেছে নিন খাঁটি মুক্তো

আরও পড়ুন- দুর্ঘটনার কবলে কেন পড়ে মানুষ, এই বিষয়ে কি বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র

গণেশ মূর্তি বা ফটো স্থাপনের আগে সেই জায়গা পরিষ্কার করে নিয়ে, শুদ্ধ কাপড়ে ঠাকুর স্থাপন করে মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে কোনও পঞ্জিকায় এই মন্ত্র সহজেই পাওয়া যাবে। এরপরেই ধূপ জ্বালিয়ে আরতি করে গণেশ বন্দনা করুন। মূর্তিতে লাল চন্দনের টিকা দিয়ে, নারকেল ভেঙ্গে বাড়ির অশুভ শক্তি দূর করুন। ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিনে অন্তত তিনবার আরতি করতে হবে।  এরসঙ্গে মোদক, লাড্ডু, ভোগ নৈবেদ্য নিজের সাধ্য মত দিয়ে সেরে ফেলুন পুরোহিত ছাড়াই গণেশ পুজো বাড়িতে।