কালসর্প যোগ বা কালসর্প দোষকে ভয়াবহ দশা বলেই মনে করা হয়। এই যোগ থাকলে সারা জীবন দুর্ভাগ্যের সঙ্গে কাটে বলেই মনে করেন জ্যোতিষীরা। কালসর্প যোগ যদি কোনও জাতক বা জাতিকার থাকে তাহলে অবশ্যই তার প্রতিকার নেওয়া প্রয়োজন। কোনও ব্যক্তির কালসর্প যোগ থাকলে তাকে প্রতিপদে বাধার সম্মুখীন হবে। তাদের সমস্ত কাজেই বাধার সৃষ্টি হয়। জ্য়োতিষশাস্ত্র মতে, কালসর্প যোগের পিছনে রয়েছে রাহু ও কেতুর ভূমিকা। যখন রাহু ও কেতুর মধ্যে সব গ্রহ থাকে এবং রাহু আর কেতু সর্বদা বিপরীত দিকে থাকে তবেই কালসর্প দোষ বা যোগ দেখা দেয়। 

আরও পড়ুন- কুম্ভ রাশির উপর কেমন প্রভাব থাকবে এই মাসে, দেখে নিন

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী কালসর্প দোষ বা কালসর্প যোগ হল জন্মকুণ্ডলীর এমন একটি অবস্থা, যেখানে জ্যোতিষবিদ্যার সাত গ্রহ রাহু ও কেতুর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। এই সাত গ্রহই যদি সমান্তরাল অবস্থায় এসে তাদের ওপর রাহু ও কেতুর ছায়া পড়লেই তা পূর্ণ কালসর্প দোষ। আর যদি যে কোনও একটি গ্রহ এই ছায়ার বাইরে থেকে যায়, তাহলে তাকে বলে আংশিক কালসর্প দোষ। এই দোষ কাটাতে কত যজ্ঞ বা কত প্রতিকার করার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা। তবে জানলে অবাক হবেন, এমন এক মন্দির আছে, সেই মন্দিরে গেলেই মুক্তি পেতে পারেন এই দোষ থেকে।

আরও পড়ুন- বাধা-বিপত্তি-আর্থিক সমস্যা লেগেই রয়েছে, ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে তা দূর করুন

 

 

চেন্নাইয়ের থিরুপ্পামপুরমে অবস্থিত এই মন্দির কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি দিতে পারে। চেন্নাইয়ের কাম্বোকোনাম থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে এই মন্দির অবস্থিত। মহাদেবের স্বয়ম্ভ‌ু মূর্তির পুজো হয় এই মন্দিরে। পুরান অনুযায়ী, এই মন্দিরে রাহু ও কেতু মহাদেবের পুজো করেছিলেন বলে কথিত আছে। শিব অভিশাপে নাগকূল তাদের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাদের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য, সমগ্র নাগকূল মর্তের এই মন্দিরে থেকে শিবের পুজো করে। শিবের স্বয়ম্ভূ মূর্তির পুজো হয় এই মন্দিরে। মনে করা হয় এই মন্দির চোলান রাজবংশের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জ্যোতিষ শাস্ত্রেও উল্লেখ রয়েছে, শিবপুজো সব নিয়ম মেনে, নিষ্ঠা সহকারে করলে কালসর্প দোষের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।