বাংলার ১২ মাসের মধ্যে ফাল্গুন মাস বিষ্ণু ও শিব ভক্তদের অনুকূল বলে মনে করা হয়।  ঠিক এই কারনেই বিষ্ণু ও শিবের মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম হয়ে থাকে। ফাল্গুন মাসে, কর্ণাটক ও অন্ধ্র প্রদেশের বহু ভক্ত সোমবার ব্রত পালন করে থাকেন। কারণ এই মাসেই পালিত সকল ব্রতের সেরা শিবচতুর্দশী ব্রত বা মহাশিবরাত্রি ব্রত। তাই এই মাসে নিষ্ঠা সহকারে কয়েকটি বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবাদিদেব মহাদেব তুষ্ট হন সহজেই। তাই ফাল্গুন মাস জুড়ে মেনে চলুন এই সাধারণ নিয়মগুলি তাহলেই ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি বজায় থাকবে আপনার উপর। জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলি-

আরও পড়ুন- সমস্ত নেগেটিভ শক্তি থেকে মুক্তি, মনে রাখুন বাস্তুশাস্ত্রের ১০টি নিয়ম

১) ফাল্গুন মাসের প্রতিদিন সন্ধ্য়াবেলা পূর্ব পুরুষের উদ্দেশে প্রদীপ দান করুন। পুরো মাস এই নিয়ম পালন করুন প্রতিদিন সন্ধ্যে বেলা।

২) সম্ভব হলে প্রতি সোমবার সকালে স্নান সেরে শিবলিঙ্গে জল ঢালুন। তিনটি নিঁখুত বেলপাতা ও বাতাসা দিলেই তুষ্ট হন মহাদেব। প্রদীপ জ্বালিয়ে এক মনে স্মরণ করুন মহাদেবের, আরাধনা করুন। মহাদেব সন্তুষ্ট হলে আপনার সকল মনোবাঞ্ছা পূরণ করবেন।

৩) এই মাসে কোনও দুঃস্থ ব্যক্তি সাহায্য চাইলে তাকে ফেরাবেন না। সাধ্যমত দান করুন প্রয়োজনে তাঁকে সাহায্য করুন। মনে রাখবেন দান মানেই তা সব সময় আর্থিক দান হতে হবে তা নয়। আপনার যেমন সাধ্য সেই মতই দান করুন।

আরও পড়ুন- জীবনে সুখী দাম্পত্য যোগ, জ্যোতিষ মতে জেনে নিন এর ব্যখ্যা

৪) এই মাসে ঘর-বাড়ির কোনও অংশ নোংরা করে রাখবেন না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন বাড়ির আনাচ-কানাচ। সেই সঙ্গে বাড়ির প্রধান দরজার সামনে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ঘর থেকে কেউ বাইরে যাওয়ার আগে দরজার সামনের অংশ জল দিয়ে ধুয়ে দিন।

৫) শিবরাত্রি পালনের আগের ও পরের দিন পারন পালন করুন। অর্থাৎ শিবরাত্রি ব্রত শুরু আগের দিন একবেলা অন্নগ্রহণ করুন। ব্রত শেষের পরের দিনেও একবেলা অন্ন গ্রহণ করুন।  পুরাণ মতে, শিবরাত্রি ব্রত পালনরত ভক্তদের কষ্ট দূর করতে স্বয়ং মর্তে আর্বিভূত হন দেবাদিদেব মহাদেব।

পুরো ফাল্গুন মাস জুড়ে পালন করুন এই কটি নিয়ম। তাহলেই ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি বজায় থাকবে আপনার উপর। জীবনের সমস্ত বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবেন সহজেই।