অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ২২ জুন থেকে ২৫ জুন ২০২৬। ২৬ জুন সূর্যোদয়ের পর নিবৃত্তি। এই সময় মা কামাখ্যা ও ধরিত্রী রজঃস্বলা থাকেন। নিবৃত্তির পর শুদ্ধ না হলে গৃহে নেগেটিভ এনার্জি, রোগ-শোক, অর্থকষ্ট আসে বলে বিশ্বাস। 

অম্বুবাচী চলাকালীন মন্দির বন্ধ, পুজো বন্ধ, চাষ বন্ধ। কিন্তু আসল খেলা শুরু নিবৃত্তির পর। ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৯:৪০ মিনিটে নিবৃত্তি। পঞ্জিকা মতে, এরপরেই ধরিত্রী মা “স্নান” সেরে আবার উর্বরা হন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নিবৃত্তির পর এই ৫টা ভুল করলেই সংসারে কাল ঢুকবে:

১. ঘর না ধুয়ে উনুন জ্বালানো - লক্ষ্মী বিদায় অম্বুবাচীর ৩ দিন ঘরে “অশৌচ” লাগে। নিবৃত্তির দিন সূর্য ওঠার পর গঙ্গাজল/গোমূত্র ছিটিয়ে পুরো বাড়ি মুছতে হবে। দরজায় আম-পল্লব, আল্পনা। তারপর উনুন ধরাবে। আগে উনুন ধরালে দারিদ্র্য ঢোকে। নিয়ম: প্রথমে ঘর শুদ্ধি, তারপর রান্না। আগের দিনের বাসি খাবার ফেলে দাও।

২. ঠাকুর ঘর না ধুয়ে পুজো করা - দেবতা রুষ্ট ৩ দিন ঠাকুর ঢাকা ছিল, জল-বাতাসা বন্ধ। নিবৃত্তির দিন ভোরে সব দেব-দেবীকে স্নান করাও। পঞ্চগব্য বা গঙ্গাজল দিয়ে। নতুন কাপড়, ফুল দাও। বিষ্ণু-শিব-লক্ষ্মী পুজো মাস্ট। নিয়ম: ঠাকুরের বাসন, সিংহাসন গঙ্গাজল দিয়ে মুছে নতুন করে সাজাও। তারপর ঘট বসাও।

৩. তুলসী গাছে জল না দেওয়া - সংসারে রোগ অম্বুবাচীতে তুলসীতে জল দিতে নেই, পাতা ছিঁড়তে নেই। নিবৃত্তির দিন সকালে স্নান করে প্রথম কাজ - তুলসী মঞ্চ ধোয়া, গঙ্গাজল ঢালা, প্রদীপ দেওয়া। তুলসী = সংসারের ডাক্তার। নিয়ম: ৫টা তুলসী পাতা + কাঁচা দুধ + গঙ্গাজল মিশিয়ে সারা বাড়ি ছিটাও।

৪. মাটি কোপানো, গাছ লাগানো, বীজ বোনা - ভূমি দোষ ২৬ জুন দুপুর ১২:৩৯ মিনিটের আগে মাটিতে শাবল, কোদাল, লাঙল ঠেকাবে না। ধরিত্রী মা তখনও ক্লান্ত। কোপালে “ভূমি দোষ” লাগে - ফসলের ক্ষতি, ঘরে অশান্তি। নিয়ম: দুপুর ১২:৩৯ এর পর “শুভ খনন”। এক কোপ মাটি কেটে তবে চাষ শুরু।

৫. ব্রাহ্মণ/দুঃস্থ ভোজন না করানো - পিতৃদোষ নিবৃত্তি মানে “পার্বণ শ্রাদ্ধের” দিন। পূর্বপুরুষরা এই দিন জল পায়। তাই সাধ্য মতো ১ জন ব্রাহ্মণ, বা ৩ জন দুঃস্থকে সাদা ভাত, ঘি, ডাল, তিল খাওয়াও। না পারলে গরুকে খাওয়াও। নিয়ম: নিজে খাওয়ার আগে এদের খাওয়াবে। এতে পিতৃদোষ কাটে, সংসারে আয় বাড়ে।

নিবৃত্তির দিন আর কী করবে? চেকলিস্ট: ১. স্নান: সকাল সকাল গঙ্গা/নদীতে না পারলে বাড়িতে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান। ২. বস্ত্র: ঘর ধোয়ার কাপড়, ঠাকুরের কাপড় সব কেচে রোদে দাও। ৩. অগ্নি: সন্ধ্যায় তুলসী তলায় ও ঠাকুর ঘরে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালো। অশুভ শক্তি পালায়। ৪. খাবার: নিবৃত্তির দিন নিরামিষ। পান্তা, দই, চিঁড়ে, ফল। আম-দুধ শুভ। ৫. শুরু: গৃহপ্রবেশ, বিয়ে, পৈতা, নতুন ব্যবসা - দুপুর ১২:৩৯ এর পর শুভ।

বিজ্ঞান কী বলছে? জুন মাস = বর্ষা শুরুর আগে ভ্যাপসা গরম। পুরোনো দিনে ৩ দিন উনুন বন্ধ = ঘর ঠান্ডা থাকা। ৩ দিন পর ঘর ধোয়া = ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার। চাষ বন্ধ = মাটির মাইক্রোবস রিজেনারেট হওয়ার সময় পায়। শাস্ত্রের পিছনে হাইজিন + ইকোলজি।

শেষ কথা - বিশ্বাস না সিস্টেম তুমি মানো না মানো তোমার ব্যাপার। কিন্তু লাখ লাখ কৃষক আজও নিবৃত্তির আগে লাঙল ছোঁয় না। ফল? মাটির হেলথ ভালো থাকে। ঘর ধুলে মন ভালো থাকে। ব্রাহ্মণ খাওয়ালে সমাজ ভালো থাকে। নিয়মগুলো “ভয়” না, “সিস্টেম”।