বিছানায় বসে কাজ করলে প্রথমে আরাম লাগলেও পরে প্রোডাক্টিভিটি, ফোকাস আর শরীর তিনটেই খারাপ হয়। কেরিয়ারে এগোতে গেলে "বিছানা = ঘুম" আর "ডেস্ক = কাজ" এই ফারাকটা রাখতেই হবে।
ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সবচেয়ে বড় আরাম কী জানেন? ঘুম থেকে উঠেই ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় বসে পড়া। পাশে গরম চা, পিঠে বালিশ। মনে হয় এর থেকে সুবিধার কাজ আর হয় না। কিন্তু এই আরামটাই ১ মাস পরে আপনার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিছানা আমাদের ব্রেনের কাছে ঘুম আর বিশ্রামের জায়গা। আর ডেস্ক মানে কাজ আর ফোকাসের জায়গা। আপনি যখন রোজ বিছানায় বসে মিটিং করেন, মেইল করেন, তখন ব্রেন কনফিউজ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না এখন কাজ করতে হবে না ঘুমাতে হবে। ফলাফল কী হয়? কাজের সময় মন বসে না, ছোট ছোট ভুল বাড়ে, আর রাতে ঠিকমতো ঘুমও আসে না।
শুধু মন না, শরীরও ছেড়ে দেয়। বালিশে হেলান দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপ নিয়ে বসলে ২ সপ্তাহের মধ্যেই ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা আর চোখে জ্বালা শুরু হবে। HR-কে তো আর বলা যাবে না যে বিছানায় কাজ করে পিঠ গেছে। আর মেডিকেল নিলেও নিজের কাছেই খারাপ লাগবে।
প্রোডাক্টিভিটির অবস্থা আরও খারাপ। বিছানায় বসলে পাশেই ফোন, টিভি, ঘুম সব হাতের কাছে। ৫ মিনিট কাজ করে ১৫ মিনিট রিলস স্ক্রল হয়ে যায়। ডেডলাইন মিস হয়। বসের চোখে আপনি হয়ে যান "WFH তে সিরিয়াস না"। প্রমোশনের সময় সবার আগে আপনার নামটাই বাদ যাবে।
ভিডিও কলের কথাও ভাবুন। আপনি বিছানা থেকে এলোমেলো চুলে জয়েন করছেন। আর বাকিরা সবাই ডেস্কে ফর্মাল ড্রেসে। এটা আপনার প্রফেশনাল ইমেজটাই নষ্ট করে দেয়। লিডারশিপের কথা তো পরের কথা।
তাহলে সমাধান কী? কেরিয়ার বাঁচাতে ৩টে কাজ মাস্ট
প্রথমত, বিছানা আর কাজের জায়গা একদম আলাদা করুন। বাড়িতে আলাদা রুম না থাকলেও চলবে। ডাইনিং টেবিলে একটা চেয়ার পেতে নিন। কাজ শেষ হলেই ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই জায়গা ছেড়ে উঠে আসুন।
দ্বিতীয়ত, অফিসের মতো রুটিন মেনে চলুন। ঘুম থেকে উঠে স্নান করে, ভালো জামা কাপড় পরে তারপর কাজে বসুন। সারাদিন পাজামা পরে থাকলে আপনার এনার্জিও নেতিয়ে পড়বে।
তৃতীয়ত, ব্রেক নিন কিন্তু বিছানায় গিয়ে না। প্রতি ১ ঘণ্টা কাজের পর ৫ মিনিট উঠে হাঁটুন। জানালা দিয়ে বাইরে তাকান। চোখ আর মন দুটোই রেস্ট পাবে।
ওয়ার্ক ফ্রম হোম মানে স্বাধীনতা ঠিকই। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সাথে ডিসিপ্লিন না থাকলে সেটাই আপনার কেরিয়ারের জেল হয়ে যায়। বিছানা হল রেস্ট করার জায়গা। ওটাকে অফিস বানালে না কাজ ভালো হবে, না ঘুম।
কেরিয়ারে সত্যি উন্নতি চাইলে আরাম আর কাজের মধ্যে লাইনটা টানতেই হবে।
