২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দুটি একাদশী ব্রত পালিত হবে - বরুথিনী ও মোহিনী একাদশী। ১৩ এপ্রিল বরুথিনী একাদশী এবং ২৭ এপ্রিল মোহিনী একাদশী পড়েছে, উভয় তিথিই ভগবান বিষ্ণুর পূজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী মোট ১৬টি তিথি রয়েছে। তার মধ্যে একাদশী একটি বিশেষ তিথি। এই তিথির অধিপতি হলেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু। তাই এই দিনে তাঁর বিশেষ পুজো করা হয়। সাধারণত এক বছরে ২৫টি একাদশী পড়ে, তবে অধিমাস বা মলমাস থাকলে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৬ হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দুটি একাদশী পড়েছে। আসুন, এই দুটি একাদশীর সঠিক তারিখ ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বরুথিনী একাদশী ২০২৬ কবে?
বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে বরুথিনী একাদশী বলা হয়। ২০২৬ সালে এই ব্রতটি ১৩ এপ্রিল, সোমবার পালন করা হবে। এই দিন আবার বল্লভাচার্য জয়ন্তীও উদযাপিত হবে। এছাড়াও, এই দিনে শুভ, शुक्ल এবং অমৃত নামের তিনটি শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে, যা এই উৎসবের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও এই একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
মোহিনী একাদশী ২০২৬ কবে?
বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীকে মোহিনী একাদশী বলা হয়। এই বছর এই ব্রতটি ২৭ এপ্রিল, সোমবার পালন করা হবে। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তিথিতেই ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে ছলনার মাধ্যমে দেবতাদের অমৃত পান করিয়েছিলেন। এই দিনে ধ্রুব, ধ্বজা এবং শ্রীবৎস নামের তিনটি শুভ যোগ তৈরি হবে, যার ফলে এই ব্রতের প্রভাব আরও বেশি হবে বলে মনে করা হয়।
একাদশী তিথির অধিপতি কেন ভগবান বিষ্ণু?
ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, একবার মুর নামক এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ভগবান বিষ্ণু খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং একটি গুহায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বিষ্ণুর পিছু ধাওয়া করে মুর অসুরও সেখানে পৌঁছে যায়। ঠিক তখনই ভগবান বিষ্ণুর শরীর থেকে একটি দিব্য তেজ বেরিয়ে আসে, যা এক নারী রূপে পরিবর্তিত হয়। সেই নারী মুর অসুরকে বধ করেন। ঘুম থেকে উঠে ভগবান বিষ্ণু পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। তখন তিনি ওই নারীর নাম রাখেন একাদশী এবং তিথিচক্রে তাঁকে একটি বিশেষ স্থান দেন। সেই থেকেই একাদশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা হয়।
এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি ধর্মগ্রন্থ, বিভিন্ন পণ্ডিত এবং জ্যোতিষীদের থেকে সংগৃহীত। আমরা কেবল এই তথ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, এই তথ্যগুলিকে শুধুমাত্র তথ্যের খাতিরেই গ্রহণ করতে।


