শুধু ইনকাম কম নয়, বাস্তুদোষেও টাকা জলের মতো বেরিয়ে যায়। বাস্তু শাস্ত্র মতে, বাড়ির বাথরুম হল নেগেটিভ এনার্জির সবচেয়ে বড় উৎস। এখানে ভুল জিনিস রাখলে বা ভুল অভ্যাস থাকলে আয়-উন্নতি আটকে যায়, লেগে থাকে অভাব-অনটন, রোগ-ভোগ।
অনেক রোজগার করেও মাসের শেষে হাত খালি। হঠাৎ হঠাৎ খরচ, অসুখ-বিসুখ, চাকরিতে বাধা। ডাক্তার, জ্যোতিষী সব দেখানো শেষ। কিন্তু একবার কি বাথরুমটা চেক করেছেন?

বাস্তু শাস্ত্র বলছে, বাড়ির বাথরুম আর টয়লেট হল ‘রাহু-কেতু’-র জায়গা। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি নেগেটিভ এনার্জি তৈরি হয়। এই নেগেটিভ এনার্জি পুরো বাড়ির পজিটিভ এনার্জিকে নষ্ট করে দেয়। ফলে টাকা আসলেও থাকে না, শান্তি থাকে না।
জল হল টাকার প্রতীক। বাথরুমে জল অপচয় হওয়া মানে টাকা অপচয় হওয়া। তাই কিছু জিনিস বা অভ্যাস বাথরুমে রাখলে ‘মা লক্ষ্মী’ রুষ্ট হন।
বাথরুমে ভুলেও রাখবেন না এই ৫ জিনিস, লাগবে অভাব
১. ভাঙা বালতি, মগ, আয়না – ‘দরিদ্র যোগ’ তৈরি করে বাস্তু মতে, ভাঙা বা ফাটা জিনিস রাখা মানে ‘ভাঙা ভাগ্য’ ডেকে আনা। ভাঙা বালতি-মগে জল ধরলে যেমন জল চুঁইয়ে পড়ে, তেমনই আপনার টাকাও চুঁইয়ে বেরিয়ে যাবে। ফাটা আয়না দেখলে নেগেটিভ এনার্জি দ্বিগুণ হয়। কী করবেন: আজই ভাঙা বালতি, মগ, কমোডের ঢাকনা, ফাটা আয়না ফেলে দিন। নতুন কিনুন।
২. খারাপ হওয়া কল বা শাওয়ার – টাকা ‘চুঁইয়ে’ বেরিয়ে যাওয়া টিপ টিপ করে কল থেকে জল পড়া মানে টাকা পয়সা টিপ টিপ করে সংসার থেকে বেরিয়ে যাওয়া। এটা সবচেয়ে খারাপ বাস্তু দোষ। এর ফলে অকারণ খরচ, ধার-দেনা বাড়ে। রোগ-ভোগও লেগে থাকে। কী করবেন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্লাম্বার ডেকে কল সারান। এক ফোঁটা জলও যেন না পড়ে।
৩. বাথরুমে ঝাঁটা, মুছার স্টিক – লক্ষ্মীকে ঝেঁটিয়ে বিদায় ঝাঁটা হল ‘মা লক্ষ্মী’র প্রতীক। বাথরুম হল নোংরা জায়গা। সেখানে ঝাঁটা রাখলে মা লক্ষ্মী অপমানিত হন। এর ফলে ঘোর আর্থিক কষ্ট, অপমান, চাকরি-ব্যবসায় লোকসান হয়। কী করবেন: ঝাঁটা, ফিনাইলের বোতল, নোংরা ন্যাতা বাথরুমের বাইরে, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখুন। বাথরুমে রাখবেন না।
৪. খালি বালতি বা ড্রাম – ‘শূন্য ভাণ্ডার’ ডেকে আনে বাস্তু বলছে, বাথরুমে খালি বালতি রাখা মানে আপনার ভাণ্ডারও খালি থাকবে। আয়ের রাস্তা বন্ধ হবে। সঞ্চয় হবে না। কী করবেন: বালতি সবসময় জল ভরে রাখুন। খালি বালতি উপুড় করে রাখুন। বেডরুম বা ঠাকুরঘরে ভুলেও খালি বালতি রাখবেন না।
৫. ছবি, গাছ বা ঠাকুরের ফটো – এনার্জি নষ্ট হয় অনেকে শখ করে বাথরুমে আর্টিফিশিয়াল গাছ, ফটো ফ্রেম, এমনকি ছোট গণেশ মূর্তি রাখেন। বাস্তু মতে এটা ঘোর অপরাধ। বাথরুমের নেগেটিভ এনার্জি ওই পজিটিভ জিনিসের শক্তি নষ্ট করে দেয়। উল্টে ঘরে অশান্তি, রোগ বাড়ে। কী করবেন: বাথরুম একদম ফাঁকা রাখুন। শুধু দরকারি জিনিস – সাবান, শ্যাম্পু, মগ।
অভাব কাটাতে বাথরুমের ৫টা ‘লক্ষ্মী টোটকা’ শুধু জিনিস সরালেই হবে না, এই নিয়মগুলো মানুন। টাকার ফ্লো ফিরবে।
১. বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখুন: খোলা থাকলে নেগেটিভ এনার্জি সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। টয়লেটের ঢাকনাও ব্যবহারের পর বন্ধ রাখুন। এতে টাকা ‘ফ্লাশ’ হয়ে যাবে না।
২. নীল রঙের বালতি বা মগ ব্যবহার করুন: নীল রং ‘রাহু’কে শান্ত করে। বাথরুমের দোষ কাটে। বালতি, মগ, পাপোশ নীল রঙের রাখুন। দেয়ালের রং হালকা নীল বা সাদা রাখুন। লাল, কালো রং একদম নয়।
৩. এক বাটি নুন রাখুন: একটা কাঁচের বাটিতে সামুদ্রিক লবণ ভরে বাথরুমের কোণে রাখুন। নুন নেগেটিভ এনার্জি শুষে নেয়। ১৫ দিন অন্তর নুন পাল্টে ফেলুন। পুরনো নুন কমোডে ফ্লাশ করে দিন।
৪. কর্পূর জ্বালান: সপ্তাহে ২ দিন বাথরুমে ১ টুকরো কর্পূর জ্বালান। ধোঁয়া নেগেটিভ এনার্জি ও জীবাণু দুটোই তাড়ায়। ঘরে পজিটিভিটি আসে।
৫. লিকুইড মানি প্ল্যান্ট নয়, ফিটকিরি: বাথরুমে গাছ রাখবেন না। তার বদলে এক টুকরো ফিটকিরি নেটের ব্যাগে ভরে দরজার পিছনে ঝুলিয়ে দিন। অর্থনাশ আটকাবে, ভাইরাসও মরবে।
কোন দিকে বাথরুম থাকা সবচেয়ে খারাপ? বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা ‘ঈশান কোণে’ বাথরুম থাকা সবচেয়ে খারাপ। এটা ‘বাস্তুর হৃদপিণ্ড’। এখানে টয়লেট থাকলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি, বাড়ির কর্তার অসুখ, সন্তানহানি পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিকার: ঈশান কোণের বাথরুম ব্যবহার কম করুন। দরজার বাইরে পিরামিড বা বাস্তু যন্ত্র লাগান। এক্সপার্ট ডেকে রেমেডি করুন। বাথরুমের বেস্ট ডিরেকশন হল দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকের অংশ।
শেষ কথা: বিশ্বাস আপনার। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ হাজার বছর ধরে বাস্তু মানছে। সামান্য কল সারানো, ভাঙা বালতি ফেলা, দরজা বন্ধ রাখা – এতে তো পয়সা লাগছে না।
হয়তো আপনার অভাবের কারণ এই ছোট্ট বাথরুমটাই। আজই চেক করুন। সরিয়ে ফেলুন ৫ জিনিস। মানুন ৫ নিয়ম।
কারণ টাকা রোজগার করা কঠিন, কিন্তু টাকা ধরে রাখা আরও কঠিন। আর বাস্তু বলছে, টাকা ধরে রাখার প্রথম ঘর হল আপনার বাথরুম।
