পূর্বজন্মের পাপের ফল কি এই জন্মে ভোগ করছেন? শাস্ত্রমতে নিয়তি খণ্ডানো সম্ভব। জেনে নিন রেমেডি এবং সহজ ৫ উপায়। মানলে জীবনের অশান্তি কমে।
পূর্বজন্মের পাপের ফল থেকে মুক্তি পেতে বা নিয়তির খেলা ভাঙতে, মন্ত্র জপ (মহামৃত্যুঞ্জয়, বিষ্ণু মন্ত্র), ভালো কর্ম সম্পাদন (দান, সেবা, পশু-পাখির প্রতি দয়া), নিয়মিত ঈশ্বরের নাম স্মরণ ও মন্ত্র পাঠ, সৎ জীবনযাপন এবং নিজের বর্তমান কর্মের উপর মনোযোগ দেওয়া জরুরি; এই উপায়গুলো মানসিক শান্তি দেয় ও নেতিবাচক কর্মফল হ্রাস করে বলে বিশ্বাস করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা: ১. মন্ত্র জপ ও ঈশ্বরের স্মরণ:
* মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র/বিষ্ণু মন্ত্র: এই মন্ত্রগুলো পাঠ করলে মানসিক ভয়, অস্থিরতা দূর হয় এবং আত্মার ওপর প্রভাব ফেলে পূর্বজন্মের নেতিবাচক শক্তিকে দুর্বল করে। * নিয়মিত জপ: স্নানের পর শুদ্ধ বস্ত্র পরে একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের নাম জপ ও মন্ত্র পাঠ করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।
২. শুভ কর্ম সম্পাদন (পুণ্য সঞ্চয়):
* ভালো কাজ: অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত বর্তমানের পুণ্য কর্মের মাধ্যমে করা সম্ভব। * দান ও সেবা: দরিদ্রদের সাহায্য করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, যেমন - শুকনো নারকেল ও কম্বল দান করা, কর্মফলকে শুভ দিকে চালিত করে। * পশু-পাখির প্রতি দয়া: আশপাশের মানুষ ও পশুপাখির প্রতি সহমর্মী ও দয়ালু হলে তা পূর্বজন্মের কর্মফল লাঘব করতে সাহায্য করে।
৩. সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন:
* নিজের দায়িত্ব পালন: অতীতের কথা ভেবে বসে না থেকে নিজের বর্তমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা উচিত। এতে মন সতেজ থাকে ও কর্মফল ভালো হয়। * সঠিক জীবনধারা: শুদ্ধ, সাত্ত্বিক জীবনযাপন এবং সংযম অভ্যাস করাও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা:
* রুদ্রাক্ষ/ক্রিস্টাল: রুদ্রাক্ষ বা ক্রিস্টালের জপমালা ব্যবহার করলে মানসিক শান্তি লাভ হয় এবং গ্রহের দোষ কেটে যেতে পারে। * ধ্যান (Meditation): নিয়মিত ধ্যান করলে মন শান্ত থাকে ও নেতিবাচকতা দূর হয়, যা কর্মফল কাটানোর জন্য সহায়ক।
৫. নারকেল ও অন্যান্য টোটকা:
* নারকেলের ব্যবহার: কালসর্প দোষ বা অন্যান্য সমস্যায় শনিবার দিন দরিদ্রদের নারকেল ও কম্বল দেওয়া হয়। * বাড়িতে শান্তির পরিবেশ: পায়রার পালক বা অনুরূপ প্রতিকার বাড়ির পরিবেশ শান্ত রাখে ও আর্থিক উন্নতিতে সাহায্য করে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
* এসব উপায় মূলত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের উপর নির্ভরশীল, যা মনকে ইতিবাচক রাখতে ও জীবনের বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। * নিয়তির খেলা ভাঙা মানে শুধু কষ্ট এড়ানো নয়, বরং ভালো কর্মের মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করা এবং বর্তমান জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনা।


