দেবী দুর্গা এক সুন্দরী মহিলা রূপে মহিষাসুরের সামনে আবির্ভূতা হন। হলুদ শাড়ি পরে অসুরের সামনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। সে সময় দেবীর গায়ের রঙ ছিল স্বর্ণাভ। তাঁর দশ হাতে সজ্জিত ছিল দশ অস্ত্র। মহিষাসুরের সঙ্গে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে ব্যস্ত থাকাকালীন অসুরের দুই বন্ধু চন্ড ও মুন্ড পিছন থেকে দেবীকে আক্রমন করেন। চুক্তিমত যুদ্ধ না হওয়ায় অত্যন্ত রেগে যান দেবী। ক্রমেই তাঁর মুখ নীল হয়ে ওঠে। দেবী ত্রিনয়নী চামুন্ডা রূপ ধারন করেন। এই চামুন্ডা রূপেই মা দুর্গা চন্ড ও মুন্ডের মাথা কেটে নেন। দেবীর এই চামুন্ডা রূপেরই আরাধনা করা হয় সন্ধিপুজোর মাধ্যমে। 

মা দুর্গার অনেক রূপের মধ্যে একটি রূপ হল মহিষাসুর-মর্দিনী। মা দুর্গার এই রূপেই তিনি অসুর নিধন করেছিলেন। দুর্গাপুজোর পিছনে বেশ কিছু অসুর বধের কাহিনী রয়েছে। যার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে সন্ধি পুজোর। অষ্টমী শেষ হয়ে যখন নবমী তিথি  শুরু হয় তখনই সন্ধিপুজো করা হয়। আসলে সন্ধিপুজো হল সন্ধ্যার প্রতীক। অষ্টমী তিথি শেষ হয়ে যাওয়ার শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরু হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলে সন্ধিক্ষণ। 

আরও পড়ুন- শত্রুভয় ও আর্থিক সমস্যা দূর করে দুর্গাষ্টমী ব্রত, জেনে নিন এর বিশেষ গুরুত্ব

এই সময়েই দেবী দুর্গা চন্ড ও মুন্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরদের নিধন করেছিলেন। এই ঘটনাটিকে স্মরণ করার জন্যই প্রতি বছর অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপুজো করা হয়। তবে এই পুজোটি চান্দ্রমাস ক্যালেন্ডার অনুযায়ী করা হয়। সেই কারণেই এই সন্ধিক্ষণ বছরের যে কোনও সময়েই হতে পারে। কখনও কখনও আবার ভোর রাতেও হয়ে থাকে এই সন্ধিপুজো। 

 

 

সন্ধিপুজোর নৈবেদ্য- সন্ধিপুজোয় অন্যতম উল্লেখযোগ্য নৈবেদ্য হল পদ্ম। এই পুজোয় মা-কে ১০৮টি পদ্ম অর্পণ করা হয়, ১০৮ টি বেলপাতা এবং ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। নৈবেদ্যয় দেওয়া হয় গোটা ফল, জবা ফুল, সাদা চাল, শাড়ি, গহনা, এবং সাজ-সজ্জার দ্রব্যও থাকে। এছাড়া সন্ধিপুজোর সঙ্গে বিভিন্ন আচার ও প্রথা জড়িয়ে আছে। আগে রাজপরিবার ও জমিদার পরিবারের দুর্গা পুজোয় সন্ধিপুজোর সময়ে কামান দেগে তোপধ্বনি করা হত। এখনও অনেক জায়গায় সন্ধিপুজোয় ঢাক বাজানোর রীতি রয়েছে।