জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতিটা মঙ্গলবার মা মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর দিন। সংসারের মঙ্গল, স্বামীর আয়ু, সন্তানের উন্নতি আর ঘরের অশান্তি দূর করতে বাংলার মেয়েরা যুগ যুগ ধরে এই ব্রত করেন।
মঙ্গলচণ্ডী ব্রত কেন করা হয়? মা চণ্ডী হলেন শক্তিরই এক রূপ। তিনি ‘মঙ্গল’ অর্থাৎ শুভ দেন, আর ‘অমঙ্গল’ নাশ করেন। পুরাণ বলে, সওদাগর ধনপতি আর খুল্লনার মেয়ে লীলাবতী এই ব্রত করেই স্বামী-সন্তান ফিরে পেয়েছিলেন। তাই বিবাহিত মেয়েরা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সন্তানের মঙ্গল আর সংসারের শ্রীবৃদ্ধির জন্য এই ব্রত করেন। অবিবাহিত মেয়েরাও ভালো বর পাওয়ার জন্য করতে পারেন।

২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠের মঙ্গলবার কবে ? জ্যৈষ্ঠ মাস পড়ছে ১৬ মে থেকে ১৫জুন ২০২৬। এই সময় মঙ্গলবার পড়ছে ৪ দিন: ১৯ মে, ২৬ মে, ২জুন, ৯ জুন। চেষ্টা করুন সব কটা মঙ্গলবার ব্রত করতে। না পারলে অন্তত জ্যৈষ্ঠের প্রথম ও শেষ মঙ্গলবার অবশ্যই করুন।
মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের ৫ টা মাস্ট নিয়ম:
১. উপোসের নিয়ম: ব্রতীকে সূর্যোদয় থেকে পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্জলা বা ফলাহার উপোস করতে হয়। সাবু, ফল, দুধ খাওয়া যায়। চাল-ডাল, আমিষ একদম নিষেধ। শরীর খারাপ থাকলে জল খেয়ে ব্রত করা যায়। মনের ভক্তিই আসল।
২. পুজোর উপকরণ: মা চণ্ডীর ঘট পাততে লাগবে ১৭টা জিনিস। সংখ্যাটা মনে রাখুন: ১৭...১৭টা দূর্বা, ১৭টা আতপ চাল, ১৭টা ধান, ১৭টা গোটা ফল, ১৭টা ফুল। সাথে লাগবে সিঁদুর, পান-সুপারি, হলুদ, ঘট, আম্রপল্লব। কলার মান্দাসে বা পিঁড়িতে ঘট বসাবেন।
৩. আলপনা আর পুজো পদ্ধতি: সকালে স্নান করে শুদ্ধ কাপড়ে মেঝেতে পিটুলি দিয়ে আলপনা দিন। মাঝে মা চণ্ডী, চারপাশে ১৭টা পদ্ম আঁকুন। ঘটে স্বস্তিক চিহ্ন দিন। প্রথমে গণেশ পুজো, তারপর মা চণ্ডীর ধ্যান। মন্ত্র: ওঁ হ্রীং মঙ্গলচণ্ডীকায়ৈ নমঃ। বার জপ করুন।
৪. ব্রতকথা শোনা বাধ্যতামূলক: পুজোর শেষে মঙ্গলচণ্ডীর ব্রতকথা পড়তে হয় বা শুনতে হয়। বাড়ির অন্য মহিলাদের ডেকে শোনান। ব্রতকথা না শুনলে ব্রত সম্পূর্ণ হয় না। কথায় আছে, “কথা শুনলে মঙ্গল, না শুনলে অমঙ্গল”।
৫. বায়ন দেওয়া ও ব্রত ভঙ্গ: পুজো শেষে ১৭ জন এয়োস্ত্রী বা ব্রাহ্মণকে ১৭টা করে ফল, সিঁদুর, আলতা, পান বায়ন দিন। অন্তত ১ জনকেও দিন। নিজে ফল-মিষ্টি খেয়ে উপোস ভাঙুন। রাতে লুচি, সুজি, মিষ্টি খাওয়া যায়, তবে আমিষ নয়।
কী কী করবেন না:
১. ব্রতের দিন চুলে চিরুনি, নখ কাটা, কাপড় কাচা নিষেধ। ২. রাগ করবেন না, মিথ্যা বলবেন না, কাউকে অপমান করবেন না। ৩. চাল-ডালের জিনিস বা ভাত খাবেন না।
ব্রতের ফল কী? বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত করলে সংসারে রোগ-ব্যাধি আসে না। স্বামীর আয়ু বাড়ে, কর্মে উন্নতি হয়। সন্তানদের পড়াশোনায় মন বসে। অভাব-অনটন দূর হয়ে ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, মা চণ্ডী অমঙ্গলের হাত থেকে সংসারকে বাঁচান।জ্যৈষ্ঠ মাস আসছে। এই মঙ্গলবারগুলো মিস করবেন না। মা চণ্ডীর কৃপায় আপনার সংসারেও মঙ্গল হোক।


