সকালে উঠে মুখ ফোলা? পা ভারী? পেট ফাঁপা? ওজন না বাড়লেও মোটা লাগছে? এর কারণ ‘ওয়াটার রিটেনশন’ – শরীরে নোংরা জল জমা। এই জমা জল, টক্সিন বের করে দেয় ‘লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ’ বা LDM।
বলিউডের প্রায় অনেক অভিনেত্রীরাই তাদের সৌন্দর্য বজায় রাখতে ভরসা রাখেন লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ মেসেজ এর ওপর।

১. লসিকা তন্ত্র কী? আগে এটা বুঝুন: শরীরে রক্তনালীর মতো আরেকটা নালী আছে – লসিকা বা লিম্ফ। এর কাজ ৩টে: ১. নোংরা জল তোলা: কোষ থেকে বেরোনো বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়া, অতিরিক্ত জল টেনে নেয়। ২. ফিল্টার করা: ঘাড়, বগল, কুঁচকির লসিকা গ্রন্থি বা ‘লিম্ফ নোড’ এই নোংরা ছেঁকে জীবাণু মেরে ফেলে। ৩. রোগ প্রতিরোধ: লিম্ফে থাকে WBC, যা ইনফেকশনের সাথে লড়ে।
সমস্যা হল, রক্তের মতো লসিকার কোনও ‘পাম্প’ মানে হার্ট নেই। এটা চলে মাসলের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর। বেশিক্ষণ বসে থাকলে, জাঙ্ক ফুড খেলে, অপারেশন হলে, বা অসুস্থতায় এই সিস্টেম স্লো হয়ে যায়। তখন জল জমে – মুখ, পা, পেট ফুলে যায়।
২. লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ কী করে? এটা নরমাল ম্যাসাজ নয়। জোরে টেপা নিষেধ। স্কিনের ঠিক নিচে ১-২ মিমি গভীরে লসিকা নালী থাকে। থেরাপিস্ট খুব হালকা হাতে, পালকের মতো ছুঁয়ে, নির্দিষ্ট ডিরেকশনে ‘স্ট্রেচ’ করেন।
টেকনিক: ঘাড়ের লিম্ফ নোড থেকে শুরু হয়। তারপর মুখ, বগল, পেট, পা – সব নোড ‘খুলে’ দেওয়া হয়। তারপর জমা ফ্লুইডকে টেনে টেনে মূল নোডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষে সেটা কিডনিতে গিয়ে ইউরিন হয়ে বেরোয়।
ম্যাজিকের মতো শুনতে লাগলেও এটা ১৯৩০ সালে ড. এমিল ভোডার আবিষ্কার করা মেডিক্যাল টেকনিক।
৩. ৭টা প্রমাণিত উপকার ১. ফোলা কমে ৭০%: ওয়াটার রিটেনশন, পিরিয়ডের আগে মুখ-পা ফোলা, প্রেগন্যান্সি সোয়েলিং ১-২ সেশনে কমে। ২. ডিটক্স: কোষের জমা টক্সিন বেরিয়ে স্কিন গ্লো করে, ব্রণ কমে। কোরিয়ানরা একে ‘Glass Skin Massage’ বলে। ৩. সেলুলাইট হালকা করে: জমা জল সরে গেলে উরু-পেটের ঢেউ খেলানো ভাব কমে। ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: লিম্ফ ফ্লো বাড়লে WBC দ্রুত ছড়ায়। ঠান্ডা লাগা কম হয়। ৫. অপারেশনের পর মাস্ট: লাইপোসাকশন, টামি টাক, ক্যানসার সার্জারির পর ফোলা, ব্যথা, ফাইব্রোসিস কমাতে ডাক্তাররা LDM দেন। ৬. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়: পেটের LDM করলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। ৭. স্ট্রেস কমায়: নার্ভাস সিস্টেম রিল্যাক্স হয়। ঘুম ভালো হয়।
৪. কাদের জন্য না? সাবধান ১. হার্ট ফেইলিওর, কিডনি ফেইলিওর: হঠাৎ ফ্লুইড হার্ট-কিডনিতে চাপ ফেলবে। ২. অ্যাক্টিভ ক্যানসার: লিম্ফ দিয়ে ক্যানসার ছড়াতে পারে। তবে ট্রিটমেন্ট শেষ হলে ডাক্তার অনুমতি দিলে করা যায়। ৩. DVT বা ব্লাড ক্লট: ক্লট ছুটে ফুসফুসে যেতে পারে। ৪. জ্বর, ইনফেকশন: আগে ইনফেকশন সারান। প্রেগন্যান্ট হলে শুধু ট্রেন্ড থেরাপিস্টের কাছে, ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে।
৫. বাড়িতে কীভাবে করবেন? ৩ মিনিটের ফেস LDM ১. নোড খুলুন: কানের নিচে, কলার বোনের উপরের গর্তে ১০ বার হালকা সার্কেল। ২. ড্রেন করুন: কপালের মাঝ থেকে কানের দিকে, গাল থেকে কানের দিকে, থুতনি থেকে কানের নিচে – আঙুল দিয়ে পালকের মতো টানুন। প্রেশার 0। স্কিন যেন না লাল হয়। ৩. শেষ করুন: আবার কলার বোনে পাম্প করুন। খালি পেটে, নারকেল তেল দিয়ে করুন। করার পর ২ গ্লাস জল খান। দিনে ১ বার।
শেষ কথা: লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ ‘ফ্যাট’ কমায় না, ‘ফ্লুইড’ কমায়। ওজন ২-৩ কেজি কমতে পারে, কিন্তু সেটা জল। আসল ফ্যাট ঝরাতে ডায়েট-এক্সারসাইজ লাগবে।
স্পা-তে ১ সেশন ২০০০-৫০০০ টাকা। তবে লিম্ফেডিমা, পোস্ট-সার্জারি কেসে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে মেডিক্যাল LDM করানোই ভালো।
মুখ ফোলা নিয়ে ঘুম ভাঙলে ওষুধ নয়, আগে ৩ মিনিট LDM ট্রাই করুন। পাসপোর্টে স্ট্যাম্পের মতো এটাও ‘অ্যান্টি-এজিং’।


