Black Car Tyres: গাড়ির রং যাই হোক না কেন, টায়ার সবসময় কালো হয় কেন?
গাড়ির রং লাল, নীল বা সাদা যাই হোক না কেন, টায়ার কিন্তু সবসময় কালোই হয়। জানেন কি, একসময় গাড়ির টায়ার সাদা রঙের হতো? তাহলে এখন টায়ারের রং কালো কেন? এর পেছনের আসল বিজ্ঞানটা কী? চলুন জেনে নিই।

বাজারে আসা নতুন গাড়িগুলোর রং আর ডিজাইন একেক রকম হয়। কিন্তু একটা জিনিস কখনোই বদলায় না, আর তা হলো গাড়ির কালো টায়ার। গাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে টায়ারের রং কেন বদলায় না, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এর পেছনে দারুণ এক বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে।

১৯১৭ সালের আগে গাড়ির টায়ার কালো নয়, বরং সাদা বা দুধসাদা রঙের হতো। টায়ার তৈরির প্রাকৃতিক রাবারের রং সাদা হওয়ার কারণেই এমনটা হতো। রাবার মজবুত করতে তখন জিঙ্ক অক্সাইড মেশানো হতো। কিন্তু তারপরও সেই টায়ার বেশিদিন টিকত না এবং খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যেত।
টায়ারকে আরও মজবুত আর টেকসই করার উপায় খুঁজছিল কোম্পানিগুলো। বিংশ শতাব্দীতে এসে এর একটা দারুণ সমাধান মেলে। ১৯১০ সালে জর্জ ওয়েন্সলেগার (George Oenslager) নামের এক রসায়নবিদ আবিষ্কার করেন যে, রাবারের সঙ্গে 'কার্বন ব্ল্যাক' মেশালে টায়ারের শক্তি ও আয়ু অনেকটাই বেড়ে যায়।
ইংরেজিতে কার্বন ব্ল্যাককে 'সুট' (Soot) বা ভুসাকালিও বলা হয়। এগুলো আসলে অতি সূক্ষ্ম কালো কণা। এই কণাগুলো টায়ারকে দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। পাশাপাশি টায়ারকে আরও বেশি নমনীয় ও শক্তিশালী করে তোলে।
গাড়ির টায়ার কালো হওয়ার মূল কারণ এই কার্বন ব্ল্যাক, যা টায়ারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। আগে যেখানে একটা টায়ার মাত্র ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার চলত, সেখানে কার্বন ব্ল্যাক মেশানোর পর তা ৫০,০০০ কিলোমিটারের বেশি চলতে শুরু করে। অর্থাৎ, টায়ারের কালো রং শুধু স্টাইলের জন্য নয়, এটি টায়ারের আয়ু বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কার্বন ব্ল্যাক টায়ারকে রাস্তায় ভালো গ্রিপ দেয় এবং বেশি ওজন বইতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকেও টায়ারকে রক্ষা করে এই উপাদান। এর ফলে টায়ারে ফাটল ধরার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

