ভারতের বাজারে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই ২০২৭ সালে মারুতি সুজুকি ফ্রঙ্কস এবং রেনো ব্রিজার নামে দুটি নতুন হাইব্রিড এসইউভি লঞ্চ হতে চলেছে। এই গাড়িগুলোতে দুর্দান্ত মাইলেজ।

ভারতের গাড়ির বাজারে এখন হাইব্রিড মডেলের দারুণ ক্রেজ। পেট্রোল বা ডিজেলের বদলে মানুষ এখন বেশি মাইলেজ দেওয়া হাইব্রিড গাড়ির দিকেই ঝুঁকছেন। মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা, হুন্ডাই এবং কিয়ার মতো বড় কোম্পানিগুলোও এই সেগমেন্টে জোর দিচ্ছে। এর মধ্যেই ২০২৭ সালে বাজারে আসতে চলা দুটি নতুন হাইব্রিড এসইউভি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে মারুতি সুজুকির ফ্রঙ্কস ফেসলিফ্ট এবং রেনোর নতুন ব্রিজার এসইউভি। কম খরচে হাইব্রিড প্রযুক্তি আর দুর্দান্ত মাইলেজ দেওয়াই এই দুই কোম্পানির মূল লক্ষ্য। শোনা যাচ্ছে, মারুতি ফ্রঙ্কস হাইব্রিডে লিটারে ৩৫ কিলোমিটারেরও বেশি মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে।

মারুতি ফ্রঙ্কস হাইব্রিড

রিপোর্ট অনুযায়ী, মারুতি সুজুকির নতুন হাইব্রিড সিস্টেমে কোম্পানির ১.২ লিটার, তিন সিলিন্ডারের জেড-সিরিজ পেট্রোল ইঞ্জিন থাকতে পারে। এই ইঞ্জিন মূলত রেঞ্জ এক্সটেন্ডার হিসেবে কাজ করবে, যা ব্যাটারি চার্জ করবে। আর ইলেকট্রিক মোটরের সঙ্গে মিলে গাড়িটিকে শক্তি জোগাবে।

ব্যাটারি প্যাক আর ইলেকট্রিক মোটরের এই যুগলবন্দিতে লিটারে ৩৫ কিলোমিটারের বেশি মাইলেজ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। টয়োটার অ্যাটকিনসন সাইকেল-ভিত্তিক স্ট্রং হাইব্রিড সিস্টেমের চেয়ে অনেক কম খরচে এই নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে চাইছে মারুতি। বর্তমান ফ্রঙ্কসের ডিজাইনে খুব একটা বড় বদল আসার সম্ভাবনা নেই। তবে গাড়ির ভেতরে ও বাইরে হাইব্রিড ব্যাজ দেখা যেতে পারে। মারুতি এখনও এই নতুন মডেলের দাম বা ফিচারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

রেনো ব্রিজার হাইব্রিড

ফরাসি গাড়ি নির্মাতা রেনো-ও ভারতে তাদের নতুন হাইব্রিড এসইউভি আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিজার কনসেপ্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সাব-৪ মিটার এসইউভি ২০২৭ সালে লঞ্চ হতে পারে। রেনোর স্থানীয়ভাবে তৈরি আরজিএমপি (RGMP) প্ল্যাটফর্মেই এই গাড়িটি বানানো হবে। এই প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে পেট্রোল ইঞ্জিন, হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক—তিন ধরনের সিস্টেমই ব্যবহার করা যায়। ভারত সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল বাজারগুলোর কথা মাথায় রেখে রেনো একটি মাল্টি-মোড হাইব্রিড সিস্টেম তৈরি করছে। নতুন ব্রিজারে ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে ইলেকট্রিক মোটর-ভিত্তিক হাইব্রিড সিস্টেম থাকতে পারে।

বক্সি ডিজাইন আর বেশি স্পেস

কনসেপ্ট মডেলের মতোই ব্রিজারে একটি রাফ অ্যান্ড টাফ লুক আর বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স দেখা যেতে পারে। রেনো ডাস্টারের কিছু ডিজাইনের ছোঁয়াও এই গাড়িতে থাকতে পারে। পেছনের সিটের যাত্রীদের আরামের দিকে রেনো বিশেষ নজর দিচ্ছে। কোম্পানি জানিয়েছে, পেছনের সিটে ২০০ মিলিমিটার নি-রুম (হাঁটু রাখার জায়গা) এবং ৪০০ লিটারের বুট স্পেস থাকবে। এই সেগমেন্টে সবচেয়ে বেশি স্পেস দেওয়া গাড়ি হিসেবে ব্রিজারকে তুলে ধরতে চাইছে রেনো।

হাইব্রিড গাড়ির বাজারে জোর টক্কর

জ্বালানির দাম আর গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কথা ভেবে ক্রেতারা এখন হাইব্রিড গাড়ি বেশি পছন্দ করছেন। পেট্রোল ইঞ্জিনের সুবিধা আর ইলেকট্রিক মোটরের দক্ষতার মেলবন্ধন ক্রেতাদের আরও বেশি আকর্ষণ করবে। তবে মারুতি ফ্রঙ্কস হাইব্রিড এবং রেনো ব্রিজারের সঠিক দাম, লঞ্চের তারিখ বা চূড়ান্ত মাইলেজ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বাজারে আসার পর এই তথ্যগুলোই ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।