সোমবার ছিল বাংলাদেশের বিজয় দিবস। ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় এই দিনই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান-কে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। সেই যুদ্ধ চলাকালীন পাক বাহিনীকে সহায়তা করেছিল যেসব বাংলাদেশি তাদের বলা হয় রাজাকার। রবিবার বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার এইরকম ১০,৭৮৯ জন রাজাকার-এর নামের তালিকা প্রকাশ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক এক সাংবাদিক বৈঠকে এই তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যথেষ্ট দারণা নেই। তাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই নামের তালিকা প্রকাশ তারই অংশ।

রাজাকার বাহিনী ছিল তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি সহায়ক গোষ্ঠী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু ও বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের তারা নিশানা করত। মৌলবাদী জামাত-এ-ইসলামী গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ নেতা এ কে এম ইউসুফ-ই রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। ২০১৩ সালের মে মাসে তাকে গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে, ২০১৪ সালে বিচারাধীন অবস্থাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

ঘর শত্রু বিভীষণদের তালিকা প্রকাশের পর এবার দেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের নামের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। নতুন প্রদন্মের কাছে তাঁদের আত্মবলিদান-কে তুলে ধরা হবে। এ কে এম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যাটা ২.১ লক্ষের মতো। মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী স্বাধীনতা দিবসে অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৬ মার্চ তারিখে।