গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিতে বার বার উঠে এসেছে আবরার হত্যাকাণ্ডের শেষ চার ঘণ্টার বিবরণ। এই নির্মম বিবরণে শিউরে উঠছেন সকলে।  ঘটনার দিন রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কীভাবে নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা এখন পরিষ্কার সকলের কাছে। ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে মুজাহিদর রহমান, ইফতি মোশারফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকার।  এই চার অভিযুক্তের জবানবন্দি অনুসারে, মেহেদী হাসান ওরফে রবিন বুয়েটের শেরেবাংলা ভবনের ছাত্রলীগের ম্যাসেঞ্জারে একটি পোস্ট করেন। উত্তরে অমিত সাহা জানায়, আগে আবরার বাড়ি থেকে ফিরুক। ৬ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া থেকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ফেরে আবরার। 

উত্তর প্রদেশে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ধসে পড়া বাড়ির নীচে আটকে বহু

৮  অক্টোবর রাত আটটা ১৩ মিনিটে আবরারকে ২০১১ নম্বর ঘরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আবরারের ফোন ও ল্যাপটপ সঙ্গে সঙ্গে কেড়ে নেওয়া হয়। এই সময় মেহেদী হাসান ও জিয়ন আবরারকে মারতে থাকে। তারা জানতে চায়, আবরারের সঙ্গে কারা কারা এই বিরোধী শিবিরে সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আবারারের মোবাইল ও ল্যাপটপে  তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে কিছুই পাওয়া যায় না। 

এই সময় শামসুল আরেফিন নামের অন্য এক অভিযুক্ত ক্রিকেটের স্ট্যাম্প নিয়ে আসে। আবরারের পেট থেকে কথা বের করার জন্য ওই স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে মারতে থাকে। দুজন আবরারের হাত সেই সময় সোজা করে ধরে রাখে। বাকিরা সেই আবরারের মুখ চেপে রাখে। যন্ত্রণায় আবরার কাঁদতে পর্যন্ত পারেনি। অনিক সরকার আর একটা স্ট্যাম্প নিয়ে পায়ে, হাঁটুতে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যায় আবরার। বার বার আবরার অনিকের পা ধরে অনুনয় করতে থাকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনও লাভ হয় না। এক সময় সে নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। দুবার বমি করে। বাকিরা ছেড়ে দিতে বললেও, অনিক রাজি হয় না। বলে, আবরার নাটক করছে। সেই সময় আবরার দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। 

আবরারকে তার নিজের রুমে শুইয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অমিত সাহা মেসেজ পাঠায়, আবারার নাটক করছে, ওর পেট থেকে কথা বের করার জন্য আরও মারের প্রয়োজন। কিন্তু তখন আবরার পরিস্থিতি খুব খারাপ হতে থাকে। অভিযুক্তরা তাকে জল এনে দেয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করতে থাকে। চিকিৎসক আসার পরে অ্যাম্বুল্যান্স আসে। চিকিৎসক আবরারকে দেখেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।