বাংলাদেশের মৎসজীবীদের জালে পড়েছে প্রচুর ইলিশ। শুক্রবার সকালেই ট্রলার ভর্তি ইলিশগুলি আসে পটুয়াখালির কুয়াকাটার মহিপুর-আলিপুর মৎসবন্দরে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চরম উদ্দীপনা শুরু হয়েছে আড়তদারদের মধ্যে। বন্দর থেকেই অধিকাংশ বিতরণ করার কাজও শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মৎসজীবীরা জানিয়েছেন, ৬৫ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। গত ২৪ জুলাই থেকে মাছ ধরতে যেতে পারছেন মৎসদজীবীরা। কিন্তু প্রথম দফায় সমুদ্রে গেলেও তেমন ইলিশ জালে পড়েনি। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ তাঁদের জালে পড়েছে বলেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের মৎসজীবীরা। আর দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে বসে থাকায় যে আর্থিক ক্ষতির মুখে তাঁদের পড়ৃতে হয়েছিল সেই সমস্যা কিছুটা হলেও কেটে যাবে বলেই আশা করেছেন তারা। 

মহিপুরের এক মৎসজীবী জানিয়েছেন পাঁচ দিন সমুদ্রে থাকার পর প্রায় ১২০ মণ ইলিস নিয়ে তিনি ফিরতে পেরেছেন। স্থানীয় আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দাম পেয়েছেন ২১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। প্রতিমণ ইলিসের দাম হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। শুধু বড় ট্রলারের মালিকরাই নন, লাভের মুখ দেখেছেন ছোট ট্রলারের মালিকরাও। ছোট ট্রলার থাকায় গভীর সমুদ্রে যাঁরা যেতে পারেননি তাঁরাও ১০-১২ লক্ষ টাকার মাছ আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে পেরেছেন। 

বাংলাদেশের মৎসজীবীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ও মাছা ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রথম দিকে তেমন মাছ পাচ্ছিলেন না। তাই তাঁরা হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু চলতি সপ্তাহে জালে প্রচুর ইলিশ পড়ায় রীতিমত আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা। পলুটাখালির  জেলা শাসক জানিয়েছে বর্তমানে ইলিসের ভরা মরশুম চলছে। আগামী দিনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় দামও আরও কমে যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, লকডাউন, আম্ফান, সাগরে নিম্মচাপসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জল দূষণের পরিমাণ অন্য বছরের তুলনা অনেকটাই কম। আর তাতেই নদী ও সাগরে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা রীতিম প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। তাই ইলিশের রমরমা বলেও তিনি মনে করেছেন।